বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের মানচিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি, উচ্চমূল্য, দারিদ্র্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কোটি কোটি মানুষ খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছে মাত্র ১০টি দেশ। সেই তালিকায় এবার বাংলাদেশের নামও উঠে এসেছে।
যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, বড় ধরনের দুর্যোগ না হওয়া, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই উন্নতি এখনও ভঙ্গুর এবং অস্থায়ী।
কারণ, দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় অংশ এখনও খাদ্য ব্যয়ের চাপে বিপর্যস্ত। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, সবজি প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য বহু পরিবারকে খাদ্যাভ্যাস বদলাতে বাধ্য করেছে। অনেক পরিবার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কমিয়ে দিয়েছে, কেউ কেউ ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছে, আবার অনেকে স্বাস্থ্য ব্যয় কমিয়ে খাদ্য ব্যয় সামাল দিচ্ছে।
সার্চটুডে পরিবারের সদস্য হতে সিভি পাঠান
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত পাঁচটি ক্ষেত্রে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে বড় বিনিয়োগ, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য স্থায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। এছাড়াও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক খাদ্য সহায়তা, পুষ্টিনিরাপত্তাকে খাদ্যনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনা।
একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন, উন্নত বীজ, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকের জন্য সহজ অর্থায়ন বাড়ানোও জরুরি হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্যকে শুধু কৃষি বা বাজারের বিষয় হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা। কারণ খাদ্য সংকট শুধু ক্ষুধার নয়, এটি দারিদ্র্য, বৈষম্য, অপুষ্টি এবং সামাজিক অস্থিরতারও সংকট। আর সেই সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি যত দেরি হবে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি ততই গভীর হবে।
বিষয় : বাংলাদেশ খাদ্য ঝুঁকি ফুড ক্রাইসিস
.png)
রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের মানচিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি, উচ্চমূল্য, দারিদ্র্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কোটি কোটি মানুষ খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছে মাত্র ১০টি দেশ। সেই তালিকায় এবার বাংলাদেশের নামও উঠে এসেছে।
জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫’-এ বলা হয়েছে বিশ্বে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের দুই-তৃতীয়াংশের অবস্থান আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগেছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে একদিকে যেমন কিছু উন্নতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অপরদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তাও রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি সত্যিই খাদ্য সংকট থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পেরেছে, নাকি সংকটের গভীরতা এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করা হয়নি?
যদিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, বড় ধরনের দুর্যোগ না হওয়া, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই উন্নতি এখনও ভঙ্গুর এবং অস্থায়ী।
কারণ, দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় অংশ এখনও খাদ্য ব্যয়ের চাপে বিপর্যস্ত। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, সবজি প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য বহু পরিবারকে খাদ্যাভ্যাস বদলাতে বাধ্য করেছে। অনেক পরিবার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কমিয়ে দিয়েছে, কেউ কেউ ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছে, আবার অনেকে স্বাস্থ্য ব্যয় কমিয়ে খাদ্য ব্যয় সামাল দিচ্ছে।
সার্চটুডে পরিবারের সদস্য হতে সিভি পাঠান
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত পাঁচটি ক্ষেত্রে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে বড় বিনিয়োগ, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য স্থায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। এছাড়াও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক খাদ্য সহায়তা, পুষ্টিনিরাপত্তাকে খাদ্যনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনা।
একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন, উন্নত বীজ, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকের জন্য সহজ অর্থায়ন বাড়ানোও জরুরি হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো খাদ্যকে শুধু কৃষি বা বাজারের বিষয় হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা। কারণ খাদ্য সংকট শুধু ক্ষুধার নয়, এটি দারিদ্র্য, বৈষম্য, অপুষ্টি এবং সামাজিক অস্থিরতারও সংকট। আর সেই সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি যত দেরি হবে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি ততই গভীর হবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন