গত তিন দিনে জামায়াত-বিএনপির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,আল্টিমেটাম,বিক্ষোভ মিছিল আর থেমে থেমে সংঘর্ষে আরো দুই জনের উপর গুপ্ত হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত উভয় দলের ২২ জন নেতাকর্মী হামলা,মারধর ও হেনস্থার স্বীকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, শুক্রবার (১লা মে) আনুমানিক রাত ৯টা ৪৫ মিঃ এর দিকে ছাত্রদল নেতা সিফাত আল সাইফ(২৪) নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে উপজেলার কাঠালতলা বাজারের হালসা রোডে অঙ্গাত কয়েকজনের সংঘবদ্ধ আক্রমনের স্বীকার হয়।অপরদিকে একই রাতে(দিবাগত) আনুমানিক ১টার দিকে মণিরামপুর বাজারের কাচাবাজার রোডে সংঘবদ্ধ হামলার স্বীকার হয় উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আ.স.ম উবাইদুল্লাহ(৩৮)। পৃথক ২টি ঘঠনায় মুহূর্তে সোস্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় তুলেছে আহতদের নেতাকর্মী, সমার্থক ও শেভাকাক্ষীরা। সচেতন মহলের সমালোচনা ও জনমনে প্রশ্ন এখন কোন দিকে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তর উপজেলা মণিরামপুরের রাজনীতি! কি হতে চলেছে আগামির রাজপথের প্রেক্ষাপট, কোন দিকে গড়াচ্ছে ক্ষমতার পালাবদল, কি পেতে চলেছে সাধারণ মানুষ! একের পর এক হামলা,মারধর, শো-ডাউনে আতংকিত জনপদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় প্রশাসনের ভূমিক কি!
তথ্য সূত্রমতে, হরিহরনদ খননের মাটি বিক্রির প্রক্রিয়ায় বৃহঃবার(২৯শে এপ্রিল) বিকালে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া টেন্ডারের ধার্য্যকৃত ৫'শ টাকা জমাদান কারীদের ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে পৌরচত্বরে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা হাতা হাতি রূপ নেয়। এক পর্যায়ে হাতহাতি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও থেমে থেমে সংঘর্ষে উভয়দলের ১৮/২০জন নেতাকর্মী আহত হয়। এখনো অনেকেই চিকিৎসাধীন আছে। ঐ দিনই রাতে(বৃহঃবার) সন্ধার পরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র,লাঠিসোটা সহকারে হামলা-ভাংচুর হতে দেখা যায়। রাতে উপজেলা জামায়াতের আমিরের শান্তি বার্তায় কিছুটা ঠান্ডা হলেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে শুক্রবার সকালে জামায়াত ইসলামের যশোর জেলা সূরা সদস্য ও সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এড.গাজী এনামুল হক (এমপি),উপজেলা জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বে সকালে পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় বিএনপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে থানা প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামের প্রতিবাদে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে বিকালে পৌরশহরে বৃহৎ এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বিএনপির বক্তারা গাজী এনামুল হক (এমপি) সহ জামায়াতের নেতাদের বক্তব্যকে নিন্দনীয়, সাংঘর্ষিক ও উস্কানীমূলক দাবী করে তাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা-আক্রমন বন্ধ না হলে একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
মণিরামপুরে সকাল-বিকাল পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের পর রাতে উভয় দলের ২ জনের উপর গুপ্ত হামলার ঘঠনায় আতংক বিরাজ করছে জনমনে। কখন,কোথায় কি ঘঠে দৈনিক বজীবিকার তাগিদে বের হয়ে এমন সব আতংকে সাধারণ মানুষকে ফিরতে হচ্ছে ঘরে।
থানা পুলিশের ভূমিকা বরাবরের মতই রহস্যময়।
টহল জোরদারের পরও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্ন তুলেছে! নিরাপত্তার প্রশ্নে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ভূমিকা যথেষ্ট থাকলেও আইন অমান্যর অভিযোগ উঠেছে দু'দলের বিশৃঙ্খলা কারীদের বিরুদ্ধে।
মাটি কান্ডের মতো তুচ্ছ ঘঠনায় ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং হামলা-ভাংচুরের ঘঠনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে সোস্যাল মিডিয়ায়। কর্মী সমার্থক ও সাধারণ মানুষ অনলাইন প্লাটফর্মে তুলেছে নিন্দার ঝড়। ফেইসবুকে আহতের ছবি শেয়ার করা পোস্টের কমেন্টসে রিতীমতো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে দেখা গেছে সচেতন মহলের ব্যাক্তিবর্গদের।
সর্বশেষ,শুক্রবার একই রাতে উপজেলার কাঁঠালতলায় ছত্রদল নেতা ও পৌরশহরের কাঁচাবাজারে রাত ১টাই জামায়াত নেতার উপর হামলার ঘঠনা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ।
.png)
রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
গত তিন দিনে জামায়াত-বিএনপির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,আল্টিমেটাম,বিক্ষোভ মিছিল আর থেমে থেমে সংঘর্ষে আরো দুই জনের উপর গুপ্ত হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত উভয় দলের ২২ জন নেতাকর্মী হামলা,মারধর ও হেনস্থার স্বীকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, শুক্রবার (১লা মে) আনুমানিক রাত ৯টা ৪৫ মিঃ এর দিকে ছাত্রদল নেতা সিফাত আল সাইফ(২৪) নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে উপজেলার কাঠালতলা বাজারের হালসা রোডে অঙ্গাত কয়েকজনের সংঘবদ্ধ আক্রমনের স্বীকার হয়।অপরদিকে একই রাতে(দিবাগত) আনুমানিক ১টার দিকে মণিরামপুর বাজারের কাচাবাজার রোডে সংঘবদ্ধ হামলার স্বীকার হয় উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আ.স.ম উবাইদুল্লাহ(৩৮)। পৃথক ২টি ঘঠনায় মুহূর্তে সোস্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় তুলেছে আহতদের নেতাকর্মী, সমার্থক ও শেভাকাক্ষীরা। সচেতন মহলের সমালোচনা ও জনমনে প্রশ্ন এখন কোন দিকে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তর উপজেলা মণিরামপুরের রাজনীতি! কি হতে চলেছে আগামির রাজপথের প্রেক্ষাপট, কোন দিকে গড়াচ্ছে ক্ষমতার পালাবদল, কি পেতে চলেছে সাধারণ মানুষ! একের পর এক হামলা,মারধর, শো-ডাউনে আতংকিত জনপদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় প্রশাসনের ভূমিক কি!
তথ্য সূত্রমতে, হরিহরনদ খননের মাটি বিক্রির প্রক্রিয়ায় বৃহঃবার(২৯শে এপ্রিল) বিকালে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া টেন্ডারের ধার্য্যকৃত ৫'শ টাকা জমাদান কারীদের ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে পৌরচত্বরে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা হাতা হাতি রূপ নেয়। এক পর্যায়ে হাতহাতি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও থেমে থেমে সংঘর্ষে উভয়দলের ১৮/২০জন নেতাকর্মী আহত হয়। এখনো অনেকেই চিকিৎসাধীন আছে। ঐ দিনই রাতে(বৃহঃবার) সন্ধার পরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র,লাঠিসোটা সহকারে হামলা-ভাংচুর হতে দেখা যায়। রাতে উপজেলা জামায়াতের আমিরের শান্তি বার্তায় কিছুটা ঠান্ডা হলেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে শুক্রবার সকালে জামায়াত ইসলামের যশোর জেলা সূরা সদস্য ও সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এড.গাজী এনামুল হক (এমপি),উপজেলা জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বে সকালে পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় বিএনপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে থানা প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামের প্রতিবাদে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে বিকালে পৌরশহরে বৃহৎ এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বিএনপির বক্তারা গাজী এনামুল হক (এমপি) সহ জামায়াতের নেতাদের বক্তব্যকে নিন্দনীয়, সাংঘর্ষিক ও উস্কানীমূলক দাবী করে তাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা-আক্রমন বন্ধ না হলে একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
মণিরামপুরে সকাল-বিকাল পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের পর রাতে উভয় দলের ২ জনের উপর গুপ্ত হামলার ঘঠনায় আতংক বিরাজ করছে জনমনে। কখন,কোথায় কি ঘঠে দৈনিক বজীবিকার তাগিদে বের হয়ে এমন সব আতংকে সাধারণ মানুষকে ফিরতে হচ্ছে ঘরে।
থানা পুলিশের ভূমিকা বরাবরের মতই রহস্যময়।
টহল জোরদারের পরও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্ন তুলেছে! নিরাপত্তার প্রশ্নে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ভূমিকা যথেষ্ট থাকলেও আইন অমান্যর অভিযোগ উঠেছে দু'দলের বিশৃঙ্খলা কারীদের বিরুদ্ধে।
মাটি কান্ডের মতো তুচ্ছ ঘঠনায় ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং হামলা-ভাংচুরের ঘঠনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে সোস্যাল মিডিয়ায়। কর্মী সমার্থক ও সাধারণ মানুষ অনলাইন প্লাটফর্মে তুলেছে নিন্দার ঝড়। ফেইসবুকে আহতের ছবি শেয়ার করা পোস্টের কমেন্টসে রিতীমতো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে দেখা গেছে সচেতন মহলের ব্যাক্তিবর্গদের।
সর্বশেষ,শুক্রবার একই রাতে উপজেলার কাঁঠালতলায় ছত্রদল নেতা ও পৌরশহরের কাঁচাবাজারে রাত ১টাই জামায়াত নেতার উপর হামলার ঘঠনা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মণিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ।
.png)
আপনার মতামত লিখুন