ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া ও বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান বার কাউন্সিল পরীক্ষার পদ্ধতি যেন একটি কঠিন বাস্তবতা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, যুগোপযোগী প্রশ্ন পদ্ধতির মাধ্যমে এই মেধাবীদের পেশাগত পথ সুগম করা এখন সময়ের দাবি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস আয়োজিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছয় মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ও দ্বিতীয় পর্বের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছেলে-মেয়ে যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন কিংবা বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রশ্ন পদ্ধতি কেবল বাংলায় হওয়ায় তাদের এক ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এই জায়গাটি যুগোপযোগী করা যায় কি-না, তা বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখতে পারে। ওকালতি পেশা সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যার নেই কোনো গতি, সে করে ওকালতি’—এই মানসিকতা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইন পেশার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের এই ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির প্রশংসা করে মন্ত্রী আরও জানান, তিনি এই উদ্যোগে এতটাই উৎসাহিত হয়েছেন যে প্রতিটি সংসদ সদস্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন করে ইন্টার্ন নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এই ইন্টার্নরা সংসদ সদস্যদের গবেষণামূলক কাজে সহায়তা করবে, যা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আধুনিকায়ন ও বসার জায়গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আইন কমিশনের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত দুই যুগে আইন কমিশনের পেছনে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি খরচ করা হয়েছে। তারা ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করলেও এর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৮টি। প্রতি বছর জনগণের ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা খরচ করার পরেও প্রত্যাশিত ফলাফল না আসায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী প্রথম ব্যাচের উত্তীর্ণ ২৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেন এবং নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পেশাগত শপথ পাঠ করান।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লাইনাস র্যাগনার উইকস এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
.png)
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া ও বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান বার কাউন্সিল পরীক্ষার পদ্ধতি যেন একটি কঠিন বাস্তবতা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, যুগোপযোগী প্রশ্ন পদ্ধতির মাধ্যমে এই মেধাবীদের পেশাগত পথ সুগম করা এখন সময়ের দাবি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) অর্থায়নে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস আয়োজিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছয় মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ও দ্বিতীয় পর্বের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক মেধাবী ছেলে-মেয়ে যারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন কিংবা বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রশ্ন পদ্ধতি কেবল বাংলায় হওয়ায় তাদের এক ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এই জায়গাটি যুগোপযোগী করা যায় কি-না, তা বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখতে পারে। ওকালতি পেশা সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যার নেই কোনো গতি, সে করে ওকালতি’—এই মানসিকতা থেকে সমাজকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইন পেশার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের এই ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির প্রশংসা করে মন্ত্রী আরও জানান, তিনি এই উদ্যোগে এতটাই উৎসাহিত হয়েছেন যে প্রতিটি সংসদ সদস্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন করে ইন্টার্ন নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এই ইন্টার্নরা সংসদ সদস্যদের গবেষণামূলক কাজে সহায়তা করবে, যা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আধুনিকায়ন ও বসার জায়গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আইন কমিশনের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত দুই যুগে আইন কমিশনের পেছনে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি খরচ করা হয়েছে। তারা ১৬৯টি আইনের সুপারিশ করলেও এর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৮টি। প্রতি বছর জনগণের ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা খরচ করার পরেও প্রত্যাশিত ফলাফল না আসায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী প্রথম ব্যাচের উত্তীর্ণ ২৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেন এবং নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পেশাগত শপথ পাঠ করান।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লাইনাস র্যাগনার উইকস এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
.png)
আপনার মতামত লিখুন