সম্প্রতি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। বস্তুর ঊর্ধ্বে মানব সত্তার এই প্রবক্তা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রকৃতি ও ধর্মের সমন্বয়
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, বর্ষপরিক্রমা সরাসরি কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়, কিন্তু জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এটি ধর্মের বিভিন্ন কার্যধারার সাথে যুক্ত। যেমন চন্দ্রমাসের হিসেবে আমরা ঈদে আজম, জাতীয় শহীদ দিবস, ঈদে মেরাজ শরীফ, রমজান, হজ ও শবে বরাত পালন করি; তেমনি সূর্য পরিক্রমায় নামাজ, সেহরী ও ইফতার সম্পন্ন হয়। একইভাবে এই অঞ্চলে বৈশাখী উৎসব প্রাকৃতিক ঋতুবর্ষ হিসেবে শুরু হয়। অর্থাৎ কোনোটিই প্রকৃতি, ধর্ম ও জীবন থেকে আলাদা নয়, আবার একক কোনো ধর্মের নিজস্ব বিষয়ও নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব বর্ষ উদযাপনের কোনো ঈমানী তাৎপর্য নেই, বরং ভুল পথে পালনে বড় ধরণের বিচ্যুতি ঘটার আশঙ্কা থাকে।
মহররম: শোক ও শপথের মাস
মহররম মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, এই মাস মূলত ঈমানী শোকের মাস। মহান কারবালার শাহাদাতের অন্তহীন ব্যথা এবং সেই শাহাদাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জীবনপণ শপথ নেওয়ার সময় এটি। আল্লামা ইমাম হায়াত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে মর্মান্তিক গণহত্যা চলছে, পবিত্র কেবলাভূমি জবরদখলে রয়েছে এবং সমগ্র মিল্লাত বাতিল ফেরকা ও উগ্রবাদের হিংস্র রাজনীতির শিকার, সেখানে চন্দ্র নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় বা উৎসব করার কোনো অবকাশ নেই।
ইসলামের বিকৃতিকারীদের হুঁশিয়ারি
তিনি আরও বলেন, চন্দ্র নববর্ষকে যারা 'ইসলামিক কালচারাল' হিসেবে দেখিয়ে অন্য ধর্মের সাথে সংঘাত বা বৈশাখের সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে চায়, তারা মূলত ইসলামের ক্ষতি করছে। তিনি এদের মওদুদিবাদি ও বাতিল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এরা ঈমানের মৌলিক বিষয় 'ঈদে আজম' উদযাপনে কার্পণ্য করলেও এসব প্রদর্শনীবাদিতায় লিপ্ত থাকে। ঈমানদার কেউ কখনো মহররমকে এজিদবাদি কাফেরদের মতো উৎসব হিসেবে পালন করতে পারে না। শাহাদাতে কারবালার শোক কেবল শিয়াদের বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম মিল্লাত ও মানবতার শোক।
মানবিক রাষ্ট্র গঠনের ডাক
আল্লামা ইমাম হায়াত তাঁর বিবৃতিতে হিজরী সনের ইতিহাস টেনে বলেন, হিজরত মোবারক মহররম মাসে হয়নি এবং আলাদাভাবে হিজরী বর্ষ পালনের শরিয়তগত কোনো ভিত্তি নেই। মূলত কারবালার শিক্ষা আড়াল করতেই এসব উৎসবের চক্রান্ত করা হয়। তিনি সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র এবং মানবিক সাম্যের ভিত্তিতে একটি মুক্ত বিশ্বব্যবস্থা বা 'খেলাফতে ইনসানিয়াত' গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে ঈমানী শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। মহররম মাসে উৎসবের বদলে শোক ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই প্রকৃত মুমিনের পরিচয় প্রকাশ পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
.png)
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সম্প্রতি বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। বস্তুর ঊর্ধ্বে মানব সত্তার এই প্রবক্তা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রকৃতি ও ধর্মের সমন্বয়
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, বর্ষপরিক্রমা সরাসরি কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়, কিন্তু জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এটি ধর্মের বিভিন্ন কার্যধারার সাথে যুক্ত। যেমন চন্দ্রমাসের হিসেবে আমরা ঈদে আজম, জাতীয় শহীদ দিবস, ঈদে মেরাজ শরীফ, রমজান, হজ ও শবে বরাত পালন করি; তেমনি সূর্য পরিক্রমায় নামাজ, সেহরী ও ইফতার সম্পন্ন হয়। একইভাবে এই অঞ্চলে বৈশাখী উৎসব প্রাকৃতিক ঋতুবর্ষ হিসেবে শুরু হয়। অর্থাৎ কোনোটিই প্রকৃতি, ধর্ম ও জীবন থেকে আলাদা নয়, আবার একক কোনো ধর্মের নিজস্ব বিষয়ও নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব বর্ষ উদযাপনের কোনো ঈমানী তাৎপর্য নেই, বরং ভুল পথে পালনে বড় ধরণের বিচ্যুতি ঘটার আশঙ্কা থাকে।
মহররম: শোক ও শপথের মাস
মহররম মাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, এই মাস মূলত ঈমানী শোকের মাস। মহান কারবালার শাহাদাতের অন্তহীন ব্যথা এবং সেই শাহাদাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জীবনপণ শপথ নেওয়ার সময় এটি। আল্লামা ইমাম হায়াত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে মর্মান্তিক গণহত্যা চলছে, পবিত্র কেবলাভূমি জবরদখলে রয়েছে এবং সমগ্র মিল্লাত বাতিল ফেরকা ও উগ্রবাদের হিংস্র রাজনীতির শিকার, সেখানে চন্দ্র নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় বা উৎসব করার কোনো অবকাশ নেই।
ইসলামের বিকৃতিকারীদের হুঁশিয়ারি
তিনি আরও বলেন, চন্দ্র নববর্ষকে যারা 'ইসলামিক কালচারাল' হিসেবে দেখিয়ে অন্য ধর্মের সাথে সংঘাত বা বৈশাখের সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে চায়, তারা মূলত ইসলামের ক্ষতি করছে। তিনি এদের মওদুদিবাদি ও বাতিল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এরা ঈমানের মৌলিক বিষয় 'ঈদে আজম' উদযাপনে কার্পণ্য করলেও এসব প্রদর্শনীবাদিতায় লিপ্ত থাকে। ঈমানদার কেউ কখনো মহররমকে এজিদবাদি কাফেরদের মতো উৎসব হিসেবে পালন করতে পারে না। শাহাদাতে কারবালার শোক কেবল শিয়াদের বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম মিল্লাত ও মানবতার শোক।
মানবিক রাষ্ট্র গঠনের ডাক
আল্লামা ইমাম হায়াত তাঁর বিবৃতিতে হিজরী সনের ইতিহাস টেনে বলেন, হিজরত মোবারক মহররম মাসে হয়নি এবং আলাদাভাবে হিজরী বর্ষ পালনের শরিয়তগত কোনো ভিত্তি নেই। মূলত কারবালার শিক্ষা আড়াল করতেই এসব উৎসবের চক্রান্ত করা হয়। তিনি সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র এবং মানবিক সাম্যের ভিত্তিতে একটি মুক্ত বিশ্বব্যবস্থা বা 'খেলাফতে ইনসানিয়াত' গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে ঈমানী শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। মহররম মাসে উৎসবের বদলে শোক ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই প্রকৃত মুমিনের পরিচয় প্রকাশ পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন