এতদিন মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা মূলত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির দিকেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গবেষক হংবো ফু বলেন, এটি প্লাস্টিক দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে একটি উপেক্ষিত সম্পর্ককে সামনে এনেছে...
প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মাঝামাঝি এলাকায় টেক্সাসের দ্বিগুণেরও বেশি আয়তনের ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচ’। এখানে প্লাস্টিকের টুকরোগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘষা লেগে ভেঙে খুব ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, যা বাতাসে ভেসে যেতে পারে। নতুন গবেষণা বলছে, এ ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বায়ুমণ্ডলে উঠে গিয়ে জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অঞ্চলটি বায়ুবাহিত মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের বড় উৎস। তবে শুধু সমুদ্র নয়—ডাম্পিং গ্রাউন্ড, সড়কের পাশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক এবং গাড়ির টায়ার থেকেও এ ধরনের কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের একটি দল এ প্লাস্টিক কণার গঠন ও আচরণ বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। নেচার জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
এতদিন মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা মূলত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির দিকেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গবেষক হংবো ফু বলেন, এটি প্লাস্টিক দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে একটি উপেক্ষিত সম্পর্ককে সামনে এনেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, প্লাস্টিক কণার রং, আকার ও রাসায়নিক গঠন সূর্যালোকের সঙ্গে আচরণ নির্ধারণ করে। স্বচ্ছ প্লাস্টিক সূর্যালোক প্রতিফলিত করায় প্রভাব কিছুটা কম। কিন্তু রঙিন প্লাস্টিক, বিশেষ করে লাল, হলুদ, নীল ও কালো অনেক বেশি আলো শোষণ করে। এগুলো ‘কালো টি-শার্টের মতো তাপ শোষণ করে।’
প্লাস্টিক কণার আকারও গুরুত্বপূর্ণ। ন্যানোপ্লাস্টিক মানুষের চুলের প্রস্থের তুলনায় অনেক গুণ ছোট । এগুলো বাতাসে বেশি সময় থাকে এবং সমপরিমাণ ভরের জন্য বেশি সূর্যালোক শোষণ করে।
সময়ের সঙ্গে এ প্রভাব বদলাতেও পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাদা প্লাস্টিক সময়ের সঙ্গে হলদে হয়ে বেশি তাপ শোষণ করে, আবার লাল প্লাস্টিক কখনো ফ্যাকাশে হয়ে আলো প্রতিফলন বাড়ায়।
গবেষক ড্রিউ শিনডেল বলেন, বেশিরভাগ কণাই শেষ পর্যন্ত গাঢ় রঙ ধারণ করে, ফলে সামগ্রিকভাবে এগুলো শীতলতার চেয়ে বেশি উষ্ণতা সৃষ্টি করে।
যদিও বৈশ্বিকভাবে এই প্রভাব তুলনামূলক ছোট, তবুও তা অগ্রাহ্য করার মতো নয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক মিলিয়ে ব্ল্যাক কার্বনের (এক ধরনের শক্তিশালী বায়ুদূষক) উষ্ণায়ন প্রভাবের প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচের মতো সমুদ্রের যে সব এলাকায় প্লাস্টিক ঘূর্ণিস্রোতে জমা হয়, সেখানে উষ্ণায়নের প্রভাব আরো বেশি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বায়ুমণ্ডলে মোট কত প্লাস্টিক কণা আছে, তা নির্ভুলভাবে জানা এখনো কঠিন। ভবিষ্যতে আরো তথ্য পাওয়া গেলে এই প্রভাবের হিসাব বদলাতে পারে।
কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষক ন্যাটালি মাহোয়াল্ড বলেন, বর্তমানে জলবায়ুর ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব ছোট হলেও, ভবিষ্যতে এর পরিমাণ বাড়লে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তার মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখনো মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব, যা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।
গবেষকরা বলছেন, অনিশ্চয়তা থাকলেও একটি বিষয় পরিষ্কার- এই প্লাস্টিক কণাগুলোর মোট প্রভাব উষ্ণতা বৃদ্ধির দিকেই যাচ্ছে। তাই জলবায়ু মডেলগুলো হালনাগাদ করা জরুরি।
সিএনএন
.png)
রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
এতদিন মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা মূলত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির দিকেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গবেষক হংবো ফু বলেন, এটি প্লাস্টিক দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে একটি উপেক্ষিত সম্পর্ককে সামনে এনেছে...
প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মাঝামাঝি এলাকায় টেক্সাসের দ্বিগুণেরও বেশি আয়তনের ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচ’। এখানে প্লাস্টিকের টুকরোগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘষা লেগে ভেঙে খুব ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, যা বাতাসে ভেসে যেতে পারে। নতুন গবেষণা বলছে, এ ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বায়ুমণ্ডলে উঠে গিয়ে জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অঞ্চলটি বায়ুবাহিত মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের বড় উৎস। তবে শুধু সমুদ্র নয়—ডাম্পিং গ্রাউন্ড, সড়কের পাশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক এবং গাড়ির টায়ার থেকেও এ ধরনের কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের একটি দল এ প্লাস্টিক কণার গঠন ও আচরণ বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। নেচার জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
এতদিন মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা মূলত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির দিকেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গবেষক হংবো ফু বলেন, এটি প্লাস্টিক দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে একটি উপেক্ষিত সম্পর্ককে সামনে এনেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, প্লাস্টিক কণার রং, আকার ও রাসায়নিক গঠন সূর্যালোকের সঙ্গে আচরণ নির্ধারণ করে। স্বচ্ছ প্লাস্টিক সূর্যালোক প্রতিফলিত করায় প্রভাব কিছুটা কম। কিন্তু রঙিন প্লাস্টিক, বিশেষ করে লাল, হলুদ, নীল ও কালো অনেক বেশি আলো শোষণ করে। এগুলো ‘কালো টি-শার্টের মতো তাপ শোষণ করে।’
প্লাস্টিক কণার আকারও গুরুত্বপূর্ণ। ন্যানোপ্লাস্টিক মানুষের চুলের প্রস্থের তুলনায় অনেক গুণ ছোট । এগুলো বাতাসে বেশি সময় থাকে এবং সমপরিমাণ ভরের জন্য বেশি সূর্যালোক শোষণ করে।
সময়ের সঙ্গে এ প্রভাব বদলাতেও পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাদা প্লাস্টিক সময়ের সঙ্গে হলদে হয়ে বেশি তাপ শোষণ করে, আবার লাল প্লাস্টিক কখনো ফ্যাকাশে হয়ে আলো প্রতিফলন বাড়ায়।
গবেষক ড্রিউ শিনডেল বলেন, বেশিরভাগ কণাই শেষ পর্যন্ত গাঢ় রঙ ধারণ করে, ফলে সামগ্রিকভাবে এগুলো শীতলতার চেয়ে বেশি উষ্ণতা সৃষ্টি করে।
যদিও বৈশ্বিকভাবে এই প্রভাব তুলনামূলক ছোট, তবুও তা অগ্রাহ্য করার মতো নয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক মিলিয়ে ব্ল্যাক কার্বনের (এক ধরনের শক্তিশালী বায়ুদূষক) উষ্ণায়ন প্রভাবের প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচের মতো সমুদ্রের যে সব এলাকায় প্লাস্টিক ঘূর্ণিস্রোতে জমা হয়, সেখানে উষ্ণায়নের প্রভাব আরো বেশি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বায়ুমণ্ডলে মোট কত প্লাস্টিক কণা আছে, তা নির্ভুলভাবে জানা এখনো কঠিন। ভবিষ্যতে আরো তথ্য পাওয়া গেলে এই প্রভাবের হিসাব বদলাতে পারে।
কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষক ন্যাটালি মাহোয়াল্ড বলেন, বর্তমানে জলবায়ুর ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব ছোট হলেও, ভবিষ্যতে এর পরিমাণ বাড়লে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তার মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখনো মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব, যা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।
গবেষকরা বলছেন, অনিশ্চয়তা থাকলেও একটি বিষয় পরিষ্কার- এই প্লাস্টিক কণাগুলোর মোট প্রভাব উষ্ণতা বৃদ্ধির দিকেই যাচ্ছে। তাই জলবায়ু মডেলগুলো হালনাগাদ করা জরুরি।
সিএনএন
.png)
আপনার মতামত লিখুন