সার্চ টুডে

মজুরি সংকট ও নিম্নমুখী বাজার

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধান, উৎকণ্ঠায় কৃষক



বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধান, উৎকণ্ঠায় কৃষক

তীব্র শ্রমিক সংকটে ধর্মপাশা উপজেলায় পাকা বোরো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। মাঠে ধান পুরোপুরি পেকে গেলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় কর্তনে বিলম্ব হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত ১৪, ১৫ ও ২৭ মার্চের ভারী বৃষ্টিতে ১৬টি হাওরের প্রায় ৪১০ হেক্টর জমির ধান শীষ বের হওয়ার সময় পানিতে নিমজ্জিত হয়। এর মধ্যে ১৩টি হাওরের ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।


এদিকে গত ১৬ এপ্রিলের প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক পাকা জমির ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বৃষ্টির কারণে হাওরের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটার সুযোগ মিলছে না। এতে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি মাত্র সাতশ থেকে আটশ টাকা। ফলে ধান কাটার খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে ‘আদি’ পদ্ধতিতে জমি ছেড়ে দিচ্ছেন, যেখানে শ্রমিক ফসলের অর্ধেক নিয়ে যান।


এদিকে আবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ধান মাড়াই ও ট্রলি দিয়ে হাওড় থেকে কাটা ধান আনতে আগের চাইতে এখন বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।


পাইকুরাটি ইউনিয়নের কৃষক ঝনি মিয়া বলেন, ধান পাকলেও শ্রমিক নেই। কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও তারা বেশি মজুরি চায়। এ দামে ধান কেটে কোনো লাভ নেই, বরং ক্ষতিই হবে।

সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের কৃষক রেহান মিয়া বলেন সার, বীজ ও সেচ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এখন ধান কাটার সময় এসে শ্রমিক সংকট। এ অবস্থায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

কৃষকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ না করলে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। এতে চলতি মৌসুমে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধান, উৎকণ্ঠায় কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

তীব্র শ্রমিক সংকটে ধর্মপাশা উপজেলায় পাকা বোরো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। মাঠে ধান পুরোপুরি পেকে গেলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় কর্তনে বিলম্ব হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত ১৪, ১৫ ও ২৭ মার্চের ভারী বৃষ্টিতে ১৬টি হাওরের প্রায় ৪১০ হেক্টর জমির ধান শীষ বের হওয়ার সময় পানিতে নিমজ্জিত হয়। এর মধ্যে ১৩টি হাওরের ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।




এদিকে গত ১৬ এপ্রিলের প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক পাকা জমির ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বৃষ্টির কারণে হাওরের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটার সুযোগ মিলছে না। এতে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে।


কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি মাত্র সাতশ থেকে আটশ টাকা। ফলে ধান কাটার খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে ‘আদি’ পদ্ধতিতে জমি ছেড়ে দিচ্ছেন, যেখানে শ্রমিক ফসলের অর্ধেক নিয়ে যান।


এদিকে আবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ধান মাড়াই ও ট্রলি দিয়ে হাওড় থেকে কাটা ধান আনতে আগের চাইতে এখন বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।


পাইকুরাটি ইউনিয়নের কৃষক ঝনি মিয়া বলেন, ধান পাকলেও শ্রমিক নেই। কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও তারা বেশি মজুরি চায়। এ দামে ধান কেটে কোনো লাভ নেই, বরং ক্ষতিই হবে।


সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের কৃষক রেহান মিয়া বলেন সার, বীজ ও সেচ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এখন ধান কাটার সময় এসে শ্রমিক সংকট। এ অবস্থায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।


কৃষকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ না করলে সময়মতো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে না। এতে চলতি মৌসুমে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে