নড়াগাতীতে বিএনপির দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাট
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ জুন) সকালে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নেতা ঠাকুর আবুল আজম ও ইকবাল শিকদার সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যান।খবর পেয়ে নড়াগাতী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর আহতদের পাশ্ববর্তী গোপালগঞ্জ সদর ও খুলনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।নড়াগাতী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”