সার্চ টুডে

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত খুলনার জনজীবন

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা কদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। বৈশাখের শুরু থেকেই প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম আর লোডশেডিংয়ে এ অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী শ্রেণি সবাই পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কেন্দ্রীয নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শুভ্র প্রকাশ সরকার জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় খুলনা বিভাগের ২১ জেলায় ৮০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৬৪৩ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৫৮ মেগাওয়াট। খুলনা জেলায় ১৬৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মেলে মাত্র ১২১ মেগাওয়াট, ফলে ৪৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।যদিও বাস্তবে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরো বেশি। গত কদিন ধরে খুলনা নগরীর সব জায়গায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং হচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। একদিকে গ্রীষ্মের তীব্র গরম, তার ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তীব্র গরমে অনেকে শিশু ও বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে ডায়রিয়াসহ অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।নগরীর নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে ক্রেতা আসেন না। ফ্যান চলে না, গরমে মানুষ দাঁড়াতে পারে না। বিক্রি অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।এদিকে ফ্রিজনির্ভর ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। মাছ বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মাছ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না, এতে অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে।জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন খাতে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। নগরীর শিববাড়ি মোড়ে অপেক্ষমাণ যাত্রী মাছুম বিল্লাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আগে যে পথের ভাড়া ছিল ২০ টাকা, এখন সেখানে ৩০-৪০ টাকা নিচ্ছে।চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে লোডশেডিংয়ের ফলে শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিড়ম্বনায়। টানা লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিদ্যমান সংকট সমাধানে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সংকট ছিল; কিন্তু তারা ম্যানেজ করতে পেরেছিল। নির্বাচিত সরকার এখানে ব্যর্থ হলে সামনে খুব খারাপ সময় পার করতে হবে।

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত খুলনার জনজীবন