মনোহরপুরে ভয়াবহ মাদক সাম্রাজ্য: ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
মনোহরপুর ইউনিয়ন জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ মাদকের বিস্তার। স্থানীয় কুমারঘাটা বাজার এখন ইয়াবা বিক্রির প্রধান 'হটস্পট' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাজারের মোড়ে মোড়ে দিন-রাত প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা। শুধু বাজারই নয়, এলাকার মাঠ, ব্রিজের ওপর এবং চায়ের দোকানগুলো এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়নের ১, ৪, ৬, ৭ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
টার্গেটে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে স্কুলপড়ুয়া কিশোর ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে, যা স্থানীয় অভিভাবকদের গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। এলাকার স্কুল ও কলেজের মাঠগুলো এখন বিকেল বা সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের নিয়মিত আড্ডাস্থলে রূপ নেয়।
আর্থিক লোকসান ও অপরাধের যোগসূত্র
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একজন মাদকাসক্তের দৈনিক খরচ প্রায় ৯০০ টাকা (যা গড়ে ৩ পিস ইয়াবার সমান)। এই বিপুল পরিমাণ টাকার জোগান দিতে গিয়ে মাদকাসক্ত তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে। ফলে এলাকায় সামগ্রিক অপরাধের গ্রাফ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ধনী কিংবা দরিদ্র—সব পরিবারের সন্তানরাই সমানভাবে এই মরণনেশার জালে আটকা পড়ছে।
সিন্ডিকেটের শক্তিশালী জাল ও প্রশাসনের ভূমিকা
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মাদক কারবারিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে মূল হোতারা সবসময় অধরা থেকে যায় এবং মাঝেমধ্যে দু-একজন ছোটখাটো বিক্রেতা বা মাদকসেবী ধরা পড়লেও মূল সিন্ডিকেটটি অক্ষতই থেকে যাচ্ছে।
এই শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেটের কারণে মনোহরপুরের সাধারণ মানুষ এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম আপস না করে একটি বিশেষ ও কঠোর অভিযান চালানো প্রয়োজন।
.png)
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
মনোহরপুরে ভয়াবহ মাদক সাম্রাজ্য: ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
মনোহরপুর ইউনিয়ন জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ মাদকের বিস্তার। স্থানীয় কুমারঘাটা বাজার এখন ইয়াবা বিক্রির প্রধান 'হটস্পট' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাজারের মোড়ে মোড়ে দিন-রাত প্রকাশ্যেই চলছে মাদক কেনাবেচা। শুধু বাজারই নয়, এলাকার মাঠ, ব্রিজের ওপর এবং চায়ের দোকানগুলো এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়নের ১, ৪, ৬, ৭ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
টার্গেটে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে স্কুলপড়ুয়া কিশোর ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে, যা স্থানীয় অভিভাবকদের গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। এলাকার স্কুল ও কলেজের মাঠগুলো এখন বিকেল বা সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের নিয়মিত আড্ডাস্থলে রূপ নেয়।
আর্থিক লোকসান ও অপরাধের যোগসূত্র
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একজন মাদকাসক্তের দৈনিক খরচ প্রায় ৯০০ টাকা (যা গড়ে ৩ পিস ইয়াবার সমান)। এই বিপুল পরিমাণ টাকার জোগান দিতে গিয়ে মাদকাসক্ত তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে। ফলে এলাকায় সামগ্রিক অপরাধের গ্রাফ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। ধনী কিংবা দরিদ্র—সব পরিবারের সন্তানরাই সমানভাবে এই মরণনেশার জালে আটকা পড়ছে।
সিন্ডিকেটের শক্তিশালী জাল ও প্রশাসনের ভূমিকা
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মাদক কারবারিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে মূল হোতারা সবসময় অধরা থেকে যায় এবং মাঝেমধ্যে দু-একজন ছোটখাটো বিক্রেতা বা মাদকসেবী ধরা পড়লেও মূল সিন্ডিকেটটি অক্ষতই থেকে যাচ্ছে।
এই শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেটের কারণে মনোহরপুরের সাধারণ মানুষ এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম আপস না করে একটি বিশেষ ও কঠোর অভিযান চালানো প্রয়োজন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন