বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে মা ও দুই শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটিত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনতা। ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত, সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দাবিতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
হাতে আসা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে:
সকাল ১০:৫২: ইতি রাণী তার দুই সন্তানকে নিয়ে রিকশাযোগে খুব স্বাভাবিকভাবে ডাকবাংলোতে আসেন। ছোট সন্তান কোলে ও হাতে ঝাড়ু নিয়ে তিনি তৃতীয় তলায় ওঠেন। এরপর তিনি ৪ নম্বর 'খাকদোন' রুমে প্রবেশ করেন এবং তার পেছনে পেছনে বড় মেয়ে আরাধ্য ৩ নম্বর রুমে প্রবেশ করে।
সকাল ১০:৫৬: বড় মেয়ে আরাধ্যকে রেখে ছোট মেয়েকে নিয়ে অন্যান্য রুম ঘুরে ইতি রাণী পুনরায় ৪ নম্বর রুমে ঢোকেন এবং দরজা লক করে দেন। এদিকে আরাধ্য অন্যান্য রুমে ঘোরাঘুরি শেষে আবার ৩ নম্বর রুমে ঢোকে।
সকাল ১০:৫৮: ইতি রাণী ছোট মেয়েকে ৪ নম্বর রুমে রেখে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর তিনি আরাধ্যর রুমে (৩ নম্বর) প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
সকাল ১১:২৮: প্রায় ৩০ মিনিট পর আরাধ্য তার রুম খোলা রেখে বেরিয়ে আসে এবং ৪ নম্বর রুমে ঢুকে ছোট মেয়েকে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেয়।
বিকেল ৩:০৬: ডাকবাংলো দেখভালের দায়িত্বে থাকা লিটন তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখেন এক রুমে আরাধ্য পড়ে আছে এবং অন্য রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি জেলা পরিষদের গাড়িচালক কামরুল ইসলামকে ডেকে আনেন।
পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ৪ নম্বর রুমের দরজা ভেঙে ইতি রাণী ও ছোট মেয়ে অনুরাধার এবং পাশের ৩ নম্বর রুম থেকে বড় মেয়ে আরাধ্যর মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ত্রিবিধ মৃত্যুর ঘটনার নিবিড় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণাদির বিশ্লেষণ শেষ হলেই এই রহস্যজনক ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হবে।
.png)
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে মা ও দুই শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটিত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনতা। ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত, সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দাবিতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
হাতে আসা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে:
সকাল ১০:৫২: ইতি রাণী তার দুই সন্তানকে নিয়ে রিকশাযোগে খুব স্বাভাবিকভাবে ডাকবাংলোতে আসেন। ছোট সন্তান কোলে ও হাতে ঝাড়ু নিয়ে তিনি তৃতীয় তলায় ওঠেন। এরপর তিনি ৪ নম্বর 'খাকদোন' রুমে প্রবেশ করেন এবং তার পেছনে পেছনে বড় মেয়ে আরাধ্য ৩ নম্বর রুমে প্রবেশ করে।
সকাল ১০:৫৬: বড় মেয়ে আরাধ্যকে রেখে ছোট মেয়েকে নিয়ে অন্যান্য রুম ঘুরে ইতি রাণী পুনরায় ৪ নম্বর রুমে ঢোকেন এবং দরজা লক করে দেন। এদিকে আরাধ্য অন্যান্য রুমে ঘোরাঘুরি শেষে আবার ৩ নম্বর রুমে ঢোকে।
সকাল ১০:৫৮: ইতি রাণী ছোট মেয়েকে ৪ নম্বর রুমে রেখে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। এরপর তিনি আরাধ্যর রুমে (৩ নম্বর) প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
সকাল ১১:২৮: প্রায় ৩০ মিনিট পর আরাধ্য তার রুম খোলা রেখে বেরিয়ে আসে এবং ৪ নম্বর রুমে ঢুকে ছোট মেয়েকে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেয়।
বিকেল ৩:০৬: ডাকবাংলো দেখভালের দায়িত্বে থাকা লিটন তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখেন এক রুমে আরাধ্য পড়ে আছে এবং অন্য রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে তিনি জেলা পরিষদের গাড়িচালক কামরুল ইসলামকে ডেকে আনেন।
পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে ৪ নম্বর রুমের দরজা ভেঙে ইতি রাণী ও ছোট মেয়ে অনুরাধার এবং পাশের ৩ নম্বর রুম থেকে বড় মেয়ে আরাধ্যর মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ত্রিবিধ মৃত্যুর ঘটনার নিবিড় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণাদির বিশ্লেষণ শেষ হলেই এই রহস্যজনক ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন