সার্চ টুডে

হামের উপসর্গ: ১২ দিনে যমজ ছেলে হারানোর কান্না



হামের উপসর্গ: ১২ দিনে যমজ ছেলে হারানোর কান্না
মারা যাওয়া আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও আবদুল্লাহ আল নোমান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ ও ইসরাত জাহান দম্পতি। তাঁদের ঘর আলো করে গত বছরের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেয় যমজ সন্তান আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও আবদুল্লাহ আল নোমান। অথচ এক বছর দুই মাসের মধ্যেই দুই ছেলেকে হারিয়ে ফেললেন হারুন-ইসরাত দম্পতি। বেঁচে আছে কেবল ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান।

হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে মারা যায় দুই ভাই। গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল্লাহ আল ফাহিমের মৃত্যু হয়। বুধবার রাত ১১টায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গত ২২ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আবদুল্লাহ আল নোমান।

দুই সন্তানকে বাঁচাতে শেষ চেষ্টা করার কথা জানিয়ে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ছেলেদের বাঁচাতে স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে সহায়তা নিয়েছি। প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেছি, যার বেশির ভাগই ঋণ করে জোগাড় করতে হয়েছে। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার বুকের দুই ধনকে বাঁচাতে পারিনি। হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে এক বছর বয়সী যমজ সন্তানকে হারিয়েছি। সন্তান হারানোর শোকের পাশাপাশি এখন চিকিৎসার জন্য নেওয়া ঋণের ভারও বহন করতে হচ্ছে।’

হারুনুর রশিদের প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দুই শিশুই খুব হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ছিল। তাদের প্রতি সবারই আলাদা স্নেহ ছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সন্তানের মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।’

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে মিরসরাইয়ের দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানা নেই। সাধারণত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো রোগী ভর্তি হলে তার তথ্য আমাদের রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকে।’

এদিকে নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা জানান, অতিসংক্রামক হাম ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত এক দিনে হামের সরাসরি সংক্রমণে এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের কয়েকটি হাসপাতালে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে আড়াই মাস ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাবে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৬০৫। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শিশুমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। মৃতদের মধ্যে একটি শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল। বাকি তিন শিশু তীব্র উপসর্গে ভুগছিল।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া চলতি মৌসুমের হামের প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১৪টি শিশু। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে এমন শিশু মারা গেছে আরও ৯১ টি।

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


হামের উপসর্গ: ১২ দিনে যমজ ছেলে হারানোর কান্না

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ ও ইসরাত জাহান দম্পতি। তাঁদের ঘর আলো করে গত বছরের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেয় যমজ সন্তান আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও আবদুল্লাহ আল নোমান। অথচ এক বছর দুই মাসের মধ্যেই দুই ছেলেকে হারিয়ে ফেললেন হারুন-ইসরাত দম্পতি। বেঁচে আছে কেবল ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান।


হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে মারা যায় দুই ভাই। গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল্লাহ আল ফাহিমের মৃত্যু হয়। বুধবার রাত ১১টায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গত ২২ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আবদুল্লাহ আল নোমান।


দুই সন্তানকে বাঁচাতে শেষ চেষ্টা করার কথা জানিয়ে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ছেলেদের বাঁচাতে স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে সহায়তা নিয়েছি। প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেছি, যার বেশির ভাগই ঋণ করে জোগাড় করতে হয়েছে। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার বুকের দুই ধনকে বাঁচাতে পারিনি। হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে এক বছর বয়সী যমজ সন্তানকে হারিয়েছি। সন্তান হারানোর শোকের পাশাপাশি এখন চিকিৎসার জন্য নেওয়া ঋণের ভারও বহন করতে হচ্ছে।’



হারুনুর রশিদের প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দুই শিশুই খুব হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত ছিল। তাদের প্রতি সবারই আলাদা স্নেহ ছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সন্তানের মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।’


মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে মিরসরাইয়ের দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানা নেই। সাধারণত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো রোগী ভর্তি হলে তার তথ্য আমাদের রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকে।’



এদিকে নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা জানান, অতিসংক্রামক হাম ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত এক দিনে হামের সরাসরি সংক্রমণে এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের কয়েকটি হাসপাতালে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে আড়াই মাস ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাবে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৬০৫। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শিশুমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। মৃতদের মধ্যে একটি শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল। বাকি তিন শিশু তীব্র উপসর্গে ভুগছিল।


সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া চলতি মৌসুমের হামের প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১৪টি শিশু। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে এমন শিশু মারা গেছে আরও ৯১ টি।


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে