সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. বুলবুল কবিরের বিরুদ্ধে মেহেরপুরে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ওষুধ টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে নরসিংদীতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপর মহলকে ম্যানেজ করে তিনি দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে নরসিংদী জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। একই সঙ্গে নরসিংদী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদটিও শূন্য রেখে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নরসিংদী সদর হাসপাতালের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের ই-টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক প্রভাবশালী ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতে এবং প্রতিযোগিতা সীমিত করতেই পিপিআর-২০২৫ বহির্ভূত একাধিক শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।
নরসিংদী সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রেফারেন্স নম্বর D.S.H/NAR/D.S.W/AD/2025-26/453 মূলে ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ১২৫৬৫৫৬ থেকে ১২৫৬৫৬১ পর্যন্ত ছয়টি টেন্ডার আইডির আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।
তবে টেন্ডারের বিভিন্ন শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে এক ঠিকাদার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে রোববার (৩ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রকাশিত ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, টেন্ডারের একাধিক শর্ত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০২৫ এর বিধি ৬৬-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব শর্ত দরপত্রদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সীমিত করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিক লটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মোট টেন্ডার মূল্যের সমপরিমাণ কর জমার প্রমাণ, গত তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন, নির্দিষ্ট অর্থবছরের ভ্যাট স্মার্ট কার্ড এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন ও সলভেন্সি দেখানোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়।
এছাড়া টেন্ডারের শর্তে ৫ বছরের অডিট রিপোর্ট (DVC Report) এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা স্থিতি থাকার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব শর্ত মূলত নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আরোপ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন যে ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তাকেই নরসিংদীতেও কাজ পাইয়ে দিতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাইকোর্টের রুল জারির ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
.png)
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. বুলবুল কবিরের বিরুদ্ধে মেহেরপুরে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়ম ও ওষুধ টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে নরসিংদীতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপর মহলকে ম্যানেজ করে তিনি দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে নরসিংদী জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। একই সঙ্গে নরসিংদী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদটিও শূন্য রেখে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নরসিংদী সদর হাসপাতালের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের ই-টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক প্রভাবশালী ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতে এবং প্রতিযোগিতা সীমিত করতেই পিপিআর-২০২৫ বহির্ভূত একাধিক শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।
নরসিংদী সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রেফারেন্স নম্বর D.S.H/NAR/D.S.W/AD/2025-26/453 মূলে ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ১২৫৬৫৫৬ থেকে ১২৫৬৫৬১ পর্যন্ত ছয়টি টেন্ডার আইডির আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।
তবে টেন্ডারের বিভিন্ন শর্তকে চ্যালেঞ্জ করে এক ঠিকাদার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে রোববার (৩ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রকাশিত ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, টেন্ডারের একাধিক শর্ত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০২৫ এর বিধি ৬৬-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব শর্ত দরপত্রদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সীমিত করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিক লটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মোট টেন্ডার মূল্যের সমপরিমাণ কর জমার প্রমাণ, গত তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন, নির্দিষ্ট অর্থবছরের ভ্যাট স্মার্ট কার্ড এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন ও সলভেন্সি দেখানোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়।
এছাড়া টেন্ডারের শর্তে ৫ বছরের অডিট রিপোর্ট (DVC Report) এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা স্থিতি থাকার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব শর্ত মূলত নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আরোপ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন যে ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তাকেই নরসিংদীতেও কাজ পাইয়ে দিতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাইকোর্টের রুল জারির ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন