মানুষের ব্যক্তিত্ব - মানে আমরা কীভাবে ভাবি, অনুভব করি ও আচরণ করি - এটা কি জন্ম থেকেই ঠিক হয়ে যায়, নাকি জীবন চলার পথে গড়ে ওঠে? এই প্রশ্ন বহুদিনের। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, উত্তরটা সরল নয়, এখানে জিন ও পরিবেশ দুটোরই জটিল ভূমিকা রয়েছে।
আগে ধারণা ছিল, কিছু নির্দিষ্ট জিন মানুষের আচরণ নির্ধারণ করে। যেমন, একসময় ‘ওয়ারিয়র জিন' নামে পরিচিত একটি জিনকে আক্রমণাত্মক আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টা এতটা সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞ আয়সু ওকবে (Aysu Okbay) জানান, মানুষের ব্যক্তিত্ব এক বা দুইটি জিন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং হাজার হাজার জিনের ছোট ছোট প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তিত্বের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অংশ জিনগত হতে পারে। বাকি অংশ আসে পরিবেশ, অভিজ্ঞতা ও জীবনযাপনের প্রভাব থেকে।
টুইন স্টাডি কী বলছে
যমজদের নিয়ে গবেষণা (টুইন স্টাডি) এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। একই ডিএনএ থাকা যমজদের ব্যক্তিত্ব অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও পুরোপুরি এক নয়। অর্থাৎ, জিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একমাত্র নির্ধারক নয়।
পরিবেশের ভূমিকা
তাহলে কি পরিবেশই সব ঠিক করে? সেটাও পুরো সত্য নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে - বড় কোনো ঘটনা (যেমন দুর্ঘটনা বা বড় সাফল্য) ব্যক্তিত্বে খুব বড় পরিবর্তন আনে না। এছাড়া পরিবার, সমাজ বা অভিজ্ঞতা -সব মিলিয়ে ছোট ছোট প্রভাব ফেলে এবং এসব ছোট প্রভাব একত্রে বড় ভূমিকা তৈরি করে।
মনোবিজ্ঞানী ব্রেন্ট রবার্টস (Brent Roberts) বলেন, ‘বড় কোনো ট্রমা বা ঘটনা মানুষকে পুরোপুরি বদলে দেয়, এ ধারণা অনেক সময় অতিরঞ্জিত।’
গর্ভকালীন প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণায় আরও দেখা যাচ্ছে, মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়েও কিছু প্রভাব পড়তে পারে। যেমন- মায়ের মানসিক চাপ শিশুর স্বভাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ‘ফিটাল প্রোগ্রামিং’ নামে পরিচিত একটি ধারণার অংশ। তবে এই বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
পলিজেনিক ও পলি-এনভায়রনমেন্টাল বাস্তবতা
বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, ব্যক্তিত্ব পলিজেনিক (polygenic) ও পলি-এনভায়রনমেন্টাল (poly-environmental) অনেক অভিজ্ঞতার সম্মিলিত প্রভাব। এ ছাড়া জিন ও পরিবেশ একে অপরকে প্রভাবিতও করে। অর্থাৎ, একই জিন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন আচরণ তৈরি করতে পারে।
তাই বলা যায়,, আমরা জন্ম থেকেই কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসি, কিন্তু জীবনভর অভিজ্ঞতা, পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত আমাদের বদলে দেয়। আর মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিত্ব স্থির নয়, সময় অনুযায়ী এর কিছুটা পরিবর্তন হয়।
গবেষক জানা ইন্সটিনস্কে বলেন, ‘জিনগত প্রবণতা থাকলেই যে মানুষ সারাজীবন একইভাবে আচরণ করবে, এমনটা নয়।’
মানুষের ব্যক্তিত্ব কোনো একক কারণে তৈরি হয় না। এটি জিন, পরিবেশ, অভিজ্ঞতা - সবকিছুর মিশ্র ফল। তাই বলা যায়, জন্ম আমাদের শুরুটা নির্ধারণ করে, কিন্তু আমরা কীভাবে বড় হব- তা অনেকটাই নির্ভর করে জীবনের পথে আমরা কী অভিজ্ঞতা পাই এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই তার ওপর।
সূত্র: বিবিসি
.png)
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
মানুষের ব্যক্তিত্ব - মানে আমরা কীভাবে ভাবি, অনুভব করি ও আচরণ করি - এটা কি জন্ম থেকেই ঠিক হয়ে যায়, নাকি জীবন চলার পথে গড়ে ওঠে? এই প্রশ্ন বহুদিনের। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, উত্তরটা সরল নয়, এখানে জিন ও পরিবেশ দুটোরই জটিল ভূমিকা রয়েছে।
আগে ধারণা ছিল, কিছু নির্দিষ্ট জিন মানুষের আচরণ নির্ধারণ করে। যেমন, একসময় ‘ওয়ারিয়র জিন' নামে পরিচিত একটি জিনকে আক্রমণাত্মক আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টা এতটা সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞ আয়সু ওকবে (Aysu Okbay) জানান, মানুষের ব্যক্তিত্ব এক বা দুইটি জিন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং হাজার হাজার জিনের ছোট ছোট প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তিত্বের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অংশ জিনগত হতে পারে। বাকি অংশ আসে পরিবেশ, অভিজ্ঞতা ও জীবনযাপনের প্রভাব থেকে।
টুইন স্টাডি কী বলছে
যমজদের নিয়ে গবেষণা (টুইন স্টাডি) এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। একই ডিএনএ থাকা যমজদের ব্যক্তিত্ব অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও পুরোপুরি এক নয়। অর্থাৎ, জিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একমাত্র নির্ধারক নয়।
পরিবেশের ভূমিকা
তাহলে কি পরিবেশই সব ঠিক করে? সেটাও পুরো সত্য নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে - বড় কোনো ঘটনা (যেমন দুর্ঘটনা বা বড় সাফল্য) ব্যক্তিত্বে খুব বড় পরিবর্তন আনে না। এছাড়া পরিবার, সমাজ বা অভিজ্ঞতা -সব মিলিয়ে ছোট ছোট প্রভাব ফেলে এবং এসব ছোট প্রভাব একত্রে বড় ভূমিকা তৈরি করে।
মনোবিজ্ঞানী ব্রেন্ট রবার্টস (Brent Roberts) বলেন, ‘বড় কোনো ট্রমা বা ঘটনা মানুষকে পুরোপুরি বদলে দেয়, এ ধারণা অনেক সময় অতিরঞ্জিত।’
গর্ভকালীন প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণায় আরও দেখা যাচ্ছে, মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়েও কিছু প্রভাব পড়তে পারে। যেমন- মায়ের মানসিক চাপ শিশুর স্বভাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ‘ফিটাল প্রোগ্রামিং’ নামে পরিচিত একটি ধারণার অংশ। তবে এই বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
পলিজেনিক ও পলি-এনভায়রনমেন্টাল বাস্তবতা
বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, ব্যক্তিত্ব পলিজেনিক (polygenic) ও পলি-এনভায়রনমেন্টাল (poly-environmental) অনেক অভিজ্ঞতার সম্মিলিত প্রভাব। এ ছাড়া জিন ও পরিবেশ একে অপরকে প্রভাবিতও করে। অর্থাৎ, একই জিন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন আচরণ তৈরি করতে পারে।
তাই বলা যায়,, আমরা জন্ম থেকেই কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসি, কিন্তু জীবনভর অভিজ্ঞতা, পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত আমাদের বদলে দেয়। আর মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিত্ব স্থির নয়, সময় অনুযায়ী এর কিছুটা পরিবর্তন হয়।
গবেষক জানা ইন্সটিনস্কে বলেন, ‘জিনগত প্রবণতা থাকলেই যে মানুষ সারাজীবন একইভাবে আচরণ করবে, এমনটা নয়।’
মানুষের ব্যক্তিত্ব কোনো একক কারণে তৈরি হয় না। এটি জিন, পরিবেশ, অভিজ্ঞতা - সবকিছুর মিশ্র ফল। তাই বলা যায়, জন্ম আমাদের শুরুটা নির্ধারণ করে, কিন্তু আমরা কীভাবে বড় হব- তা অনেকটাই নির্ভর করে জীবনের পথে আমরা কী অভিজ্ঞতা পাই এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই তার ওপর।
সূত্র: বিবিসি
.png)
আপনার মতামত লিখুন