সার্চ টুডে

বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন, সঠিক সময় জানুন



বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন, সঠিক সময় জানুন

কারও সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক শুরু হলে সবকিছুই যেন নিখুঁত মনে হয়। মস্তিষ্কে তখন ডোপামিন, অক্সিটোসিন ও সেরোটোনিনের প্রভাব কাজ করে। তার প্রতিটি কথা ভালো লাগে, ছোটখাটো ত্রুটিও মনে হয় মিষ্টি অভ্যাস। কয়েক মাসের মধ্যেই অনেকেই ভাবতে শুরু করেন এই মানুষটিই হয়তো জীবনের জন্য ঠিক। কিন্তু এখানেই একটু থামা দরকার।

গবেষক, মনোবিজ্ঞানী এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একমত যে, এই প্রাথমিক আকর্ষণের সময়টা পেরিয়ে যাওয়ার আগে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এ সময় আবেগ বেশি, বিচারবোধ তুলনামূলক কম কাজ করে।

তবে কি হানিমুন ফেজের প্রভাব? সম্পর্কের প্রথম ৩ থেকে ১২ মাসকে বলা হয় ‘হানিমুন ফেজ’। এই সময় মস্তিষ্কের রাসায়নিক প্রভাবের কারণে মানুষ সঙ্গীর খুঁতগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন না। সবকিছুই ভালো লাগে, নেতিবাচক দিকগুলো অনেকটাই আড়ালে থেকে যায় এ সময়।

তাই অনেক থেরাপিস্ট পরামর্শ দেন, কাউকে ভালো লাগা থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে এক বছর অপেক্ষা করা উচিত। এতে আবেগের তীব্রতা কিছুটা কমে আসে এবং সম্পর্ককে বাস্তব দৃষ্টিতে দেখা সহজ হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, বেশির ভাগ দম্পতি (প্রায় ৭০ শতাংশ) এনগেজমেন্টের আগে ২ থেকে ৫ বছর সময় নেন। মাত্র ৩০ শতাংশ দম্পতি দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

গবেষণায় উঠে আসা আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পর্কের স্থায়িত্বের সঙ্গে সময়ের সরাসরি সম্পর্ক আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের তুলনায় ১ থেকে ২ বছর অপেক্ষা করা দম্পতিদের বিয়ের বিচ্ছেদের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ কম। আর যারা ৩ বছর বা তার বেশি সময় নেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।



বয়স ও পরিস্থিতির প্রভাব

সব সম্পর্ক এক রকম নয়। বয়স, জীবন পরিস্থিতি এবং লক্ষ্য অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে। কম বয়সে শুরু হওয়া সম্পর্কগুলো সাধারণত দীর্ঘ সময় নেয়। কারণ তখন ক্যারিয়ার, আর্থিক স্থিতি এবং ব্যক্তিগত পরিচয় গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

অন্যদিকে, একটু বেশি বয়সে সম্পর্ক শুরু হলে অনেক সময় এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক হতে পারে।

  • মনে রাখতে হবে, সময় নয় গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিজ্ঞতা। শুধু সময় গোনার চেয়ে সম্পর্কের ভেতরের অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় বিয়ের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেন এক্ষেত্রে-
  • প্রথমত, আপনারা কি কখনো বড় কোনো ঝগড়া বা মতবিরোধ সামলে উঠতে পেরেছেন?
  • দ্বিতীয়ত, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো - যেমন অর্থনীতি, ক্যারিয়ার, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা, এসব নিয়ে খোলামেলা কথা হয়েছে কি?
  • তৃতীয়ত, কঠিন সময়ে সঙ্গীর আচরণ কেমন, সেটা কি আপনি দেখেছেন?
  • বিজ্ঞান যা বলছে তা খুবই পরিষ্কার। কমপক্ষে এক বছর সময় নিন, যাতে আবেগের প্রভাব কমে এবং বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নিন তখনই, যখন দুজনই একই লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যতের পথে একমত হন।

মনে রাখবেন, ‘সঠিক’ সময় কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নয়। এটি তখনই আসে, যখন সম্পর্কটি পরীক্ষিত, স্থিতিশীল এবং দুজনই প্রস্তুত।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন, সঠিক সময় জানুন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কারও সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক শুরু হলে সবকিছুই যেন নিখুঁত মনে হয়। মস্তিষ্কে তখন ডোপামিন, অক্সিটোসিন ও সেরোটোনিনের প্রভাব কাজ করে। তার প্রতিটি কথা ভালো লাগে, ছোটখাটো ত্রুটিও মনে হয় মিষ্টি অভ্যাস। কয়েক মাসের মধ্যেই অনেকেই ভাবতে শুরু করেন এই মানুষটিই হয়তো জীবনের জন্য ঠিক। কিন্তু এখানেই একটু থামা দরকার।



গবেষক, মনোবিজ্ঞানী এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একমত যে, এই প্রাথমিক আকর্ষণের সময়টা পেরিয়ে যাওয়ার আগে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এ সময় আবেগ বেশি, বিচারবোধ তুলনামূলক কম কাজ করে।



তবে কি হানিমুন ফেজের প্রভাব? সম্পর্কের প্রথম ৩ থেকে ১২ মাসকে বলা হয় ‘হানিমুন ফেজ’। এই সময় মস্তিষ্কের রাসায়নিক প্রভাবের কারণে মানুষ সঙ্গীর খুঁতগুলো স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন না। সবকিছুই ভালো লাগে, নেতিবাচক দিকগুলো অনেকটাই আড়ালে থেকে যায় এ সময়।



তাই অনেক থেরাপিস্ট পরামর্শ দেন, কাউকে ভালো লাগা থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে এক বছর অপেক্ষা করা উচিত। এতে আবেগের তীব্রতা কিছুটা কমে আসে এবং সম্পর্ককে বাস্তব দৃষ্টিতে দেখা সহজ হয়।




পরিসংখ্যান বলছে, বেশির ভাগ দম্পতি (প্রায় ৭০ শতাংশ) এনগেজমেন্টের আগে ২ থেকে ৫ বছর সময় নেন। মাত্র ৩০ শতাংশ দম্পতি দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।



গবেষণায় উঠে আসা আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পর্কের স্থায়িত্বের সঙ্গে সময়ের সরাসরি সম্পর্ক আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের তুলনায় ১ থেকে ২ বছর অপেক্ষা করা দম্পতিদের বিয়ের বিচ্ছেদের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ কম। আর যারা ৩ বছর বা তার বেশি সময় নেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।



বয়স ও পরিস্থিতির প্রভাব

সব সম্পর্ক এক রকম নয়। বয়স, জীবন পরিস্থিতি এবং লক্ষ্য অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে। কম বয়সে শুরু হওয়া সম্পর্কগুলো সাধারণত দীর্ঘ সময় নেয়। কারণ তখন ক্যারিয়ার, আর্থিক স্থিতি এবং ব্যক্তিগত পরিচয় গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলতে থাকে।



অন্যদিকে, একটু বেশি বয়সে সম্পর্ক শুরু হলে অনেক সময় এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক হতে পারে।



  • মনে রাখতে হবে, সময় নয় গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিজ্ঞতা। শুধু সময় গোনার চেয়ে সম্পর্কের ভেতরের অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় বিয়ের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেন এক্ষেত্রে-
  • প্রথমত, আপনারা কি কখনো বড় কোনো ঝগড়া বা মতবিরোধ সামলে উঠতে পেরেছেন?
  • দ্বিতীয়ত, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো - যেমন অর্থনীতি, ক্যারিয়ার, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা, এসব নিয়ে খোলামেলা কথা হয়েছে কি?
  • তৃতীয়ত, কঠিন সময়ে সঙ্গীর আচরণ কেমন, সেটা কি আপনি দেখেছেন?
  • বিজ্ঞান যা বলছে তা খুবই পরিষ্কার। কমপক্ষে এক বছর সময় নিন, যাতে আবেগের প্রভাব কমে এবং বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নিন তখনই, যখন দুজনই একই লক্ষ্য, মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যতের পথে একমত হন।



মনে রাখবেন, ‘সঠিক’ সময় কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নয়। এটি তখনই আসে, যখন সম্পর্কটি পরীক্ষিত, স্থিতিশীল এবং দুজনই প্রস্তুত।



সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে