লখনৌতে রোববার সন্ধ্যায় দেখা গেল এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই। কখনও কলকাতা নাইট রাইডার্স ধসে পড়ল, কখনও লক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টস জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেল। কিন্তু শেষ হাসি হাসল কলকাতাই। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রিঙ্কু সিং। ব্যাট হাতে বিস্ফোরক ইনিংস, মাঠে দুর্দান্ত ফিল্ডিং এবং শেষে সুপার ওভারে জয়ের শট—সব মিলিয়ে ম্যাচের নায়ক তিনিই।টসে জিতে লক্ষ্নৌ কলকাতাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে কেকেআর। মাত্র ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। অাজিঙ্ক রাহানে এদিনও ব্যর্থ হন। টিম সেইফার্ট শূন্য রানে ফেরেন। অঙ্গকৃষ রঘুবংশীও বড় রান করতে পারেননি। পাওয়ার প্লে শেষে কলকাতার স্কোর ছিল মাত্র ৩১/৩।
এই অবস্থায় দলের হাল ধরেন রিঙ্কু সিং। অন্যদিকে ক্যামেরুন গ্রিন কিছুটা লড়াই করেন। তিনি ২১ বলে ৩৪ রান করে আউট হন। তবে ইনিংসের আসল গল্প ছিল রিঙ্কুর ব্যাটে। ধৈর্য ধরে শুরু করে শেষ দিকে ঝড় তোলেন তিনি। বিশেষ করে শেষ ওভারে চারটি ছক্কা মেরে ম্যাচের রং বদলে দেন। ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৭টি ছক্কা। রিঙ্কুর দাপটে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে কলকাতা।
লক্ষ্নৌর হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন মহসিন খান। শুরুতেই কলকাতার ব্যাটিং ভেঙে দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করে লখনৌ। মিচেল মার্শ দ্রুত আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে এইডেন মার্করাম ও ঋষভ পন্থ দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ১০ ওভার শেষে লক্ষ্নৌর স্কোর ছিল ৬৩/১। এরপর ম্যাচে ফের কলকাতাকে টেনে আনেন রিঙ্কু সিং। বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে মার্করামকে ফেরান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার ৩১ রান করেন। এরপর ঋষভ পন্থ ৩৮ বলে ৪২ রান করে আউট হন। তার উইকেট পড়তেই ম্যাচ ঘুরে যায়। আয়ুশ বাদনি ২৪ রান করে কিছুটা লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ টাই হয়ে যায়।
শেষ ওভারে লক্ষ্নৌর দরকার ছিল ১৭ রান। কার্তিক ত্যাগীর করা সেই ওভারে জোড়া নো-বল, শর্ট বল এবং নাটকীয় মুহূর্তে খেলা গড়ায় শেষ বলে। শেষ বলে ছক্কা মেরে সামি ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে যান। চলতি মৌসুমের প্রথম সুপার ওভারে বল হাতে আসেন সুনীল নারা্ইন। প্রথম বলেই নিকোলাস পুরানকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে। মাত্র তিন বলেই শেষ হয়ে যায় লক্ষ্নৌর ইনিংস।
জয়ের জন্য কলকাতার দরকার ছিল মাত্র ২ রান। ব্যাট হাতে নেমে প্রথম বলেই চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন রিঙ্কু সিং। যেন গল্পের শেষ দৃশ্যও লেখা ছিল তার জন্যই। এই জয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স পয়েন্ট তালিকায় উঠে এল আট নম্বরে। তবে স্কোরবোর্ডের বাইরে এই রাত মনে থাকবে একটা কারণেই—রিঙ্কু সিং নামের এক অলরাউন্ড নায়কের জন্য।
.png)
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
লখনৌতে রোববার সন্ধ্যায় দেখা গেল এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই। কখনও কলকাতা নাইট রাইডার্স ধসে পড়ল, কখনও লক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টস জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেল। কিন্তু শেষ হাসি হাসল কলকাতাই। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রিঙ্কু সিং। ব্যাট হাতে বিস্ফোরক ইনিংস, মাঠে দুর্দান্ত ফিল্ডিং এবং শেষে সুপার ওভারে জয়ের শট—সব মিলিয়ে ম্যাচের নায়ক তিনিই।টসে জিতে লক্ষ্নৌ কলকাতাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে কেকেআর। মাত্র ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। অাজিঙ্ক রাহানে এদিনও ব্যর্থ হন। টিম সেইফার্ট শূন্য রানে ফেরেন। অঙ্গকৃষ রঘুবংশীও বড় রান করতে পারেননি। পাওয়ার প্লে শেষে কলকাতার স্কোর ছিল মাত্র ৩১/৩।
এই অবস্থায় দলের হাল ধরেন রিঙ্কু সিং। অন্যদিকে ক্যামেরুন গ্রিন কিছুটা লড়াই করেন। তিনি ২১ বলে ৩৪ রান করে আউট হন। তবে ইনিংসের আসল গল্প ছিল রিঙ্কুর ব্যাটে। ধৈর্য ধরে শুরু করে শেষ দিকে ঝড় তোলেন তিনি। বিশেষ করে শেষ ওভারে চারটি ছক্কা মেরে ম্যাচের রং বদলে দেন। ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৭টি ছক্কা। রিঙ্কুর দাপটে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে কলকাতা।
লক্ষ্নৌর হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন মহসিন খান। শুরুতেই কলকাতার ব্যাটিং ভেঙে দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করে লখনৌ। মিচেল মার্শ দ্রুত আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে এইডেন মার্করাম ও ঋষভ পন্থ দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ১০ ওভার শেষে লক্ষ্নৌর স্কোর ছিল ৬৩/১। এরপর ম্যাচে ফের কলকাতাকে টেনে আনেন রিঙ্কু সিং। বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে মার্করামকে ফেরান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার ৩১ রান করেন। এরপর ঋষভ পন্থ ৩৮ বলে ৪২ রান করে আউট হন। তার উইকেট পড়তেই ম্যাচ ঘুরে যায়। আয়ুশ বাদনি ২৪ রান করে কিছুটা লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ টাই হয়ে যায়।
শেষ ওভারে লক্ষ্নৌর দরকার ছিল ১৭ রান। কার্তিক ত্যাগীর করা সেই ওভারে জোড়া নো-বল, শর্ট বল এবং নাটকীয় মুহূর্তে খেলা গড়ায় শেষ বলে। শেষ বলে ছক্কা মেরে সামি ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে যান। চলতি মৌসুমের প্রথম সুপার ওভারে বল হাতে আসেন সুনীল নারা্ইন। প্রথম বলেই নিকোলাস পুরানকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে। মাত্র তিন বলেই শেষ হয়ে যায় লক্ষ্নৌর ইনিংস।
জয়ের জন্য কলকাতার দরকার ছিল মাত্র ২ রান। ব্যাট হাতে নেমে প্রথম বলেই চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন রিঙ্কু সিং। যেন গল্পের শেষ দৃশ্যও লেখা ছিল তার জন্যই। এই জয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স পয়েন্ট তালিকায় উঠে এল আট নম্বরে। তবে স্কোরবোর্ডের বাইরে এই রাত মনে থাকবে একটা কারণেই—রিঙ্কু সিং নামের এক অলরাউন্ড নায়কের জন্য।
.png)
আপনার মতামত লিখুন