ঢাকা   শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সার্চ টুডে

অর্থনীতি

মহেশখালী এসপিএম প্রকল্পে অলস পড়ে আছে হাজার কোটি টাকা

দেশের জ্বালানি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নির্মিত মহেশখালীর 'সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং' (এসপিএম) প্রকল্পের সব অবকাঠামো এখন দৃশ্যমান। তবে বিশাল এই বিনিয়োগ আর আধুনিক প্রযুক্তি প্রস্তুত থাকলেও নানা জটিলতায় এখনো শুরু হয়নি এর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম। অথচ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলতি বছরের মধ্যেই এটি পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হবে।​আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশাল সক্ষমতা​প্রকল্পের আওতায় মহেশখালীর কালারমারছড়ায় ১০০ একর জমিতে তৈরি করা হয়েছে বিশালাকৃতির ছয়টি স্টোরেজ ট্যাংক। এর মধ্যে তিনটিতে ১ লাখ ২৬ হাজার টন ক্রুড অয়েল এবং বাকি তিনটিতে ৭৫ হাজার টন ডিজেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশ দিয়ে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি সরাসরি পৌঁছাবে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।[TECHTARANGA-POST:112]​ডাবল পাইপলাইন ব্যবস্থার ফলে একই সঙ্গে ক্রুড অয়েল ও ডিজেল পরিবহন করা যাবে, যা বছরে প্রায় ৯০ লাখ টন জ্বালানি খালাসের পথ সুগম করবে।​স্থবিরতায় শঙ্কা, স্বস্তির অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা​অবকাঠামো সম্পন্ন হলেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি শেখ আশিকুজ্জামান বলেন: ​প্রকল্পটি চালু থাকলে দেশের প্রায় এক মাসের ক্রুড অয়েল এবং এক সপ্তাহের ডিজেল মজুত রাখা সম্ভব হতো। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় এটি বড় ধরনের স্বস্তি দিতে পারত। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এতে অপচয় কমবে এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে। ​তিনি দ্রুত অপারেটর নিয়োগ ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানান।​পরিদর্শনে জ্বালানি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী​প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা সরাসরি দেখতে আজ শুক্রবার মহেশখালী আসছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।​সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে যাত্রা শুরু করে তারা সাগরে স্থাপিত এসপিএম বয়া ও এফএসআরইউ পরিদর্শন করবেন। এরপর বিকেলে মাতারবাড়ি জেটি, প্রস্তাবিত এলএনজি-এলপিজি টার্মিনাল এবং ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখার কথা রয়েছে তাদের। আগামীকাল শনিবার সকালে মহেশখালীর এসপিএম ট্যাংক ফার্ম ও অন্যান্য কারিগরি স্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে তাদের এই সফর শেষ হবে। ​জ্বালানি খাতের এই মেগা প্রকল্প দ্রুত সচল হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মহেশখালী এসপিএম প্রকল্পে অলস পড়ে আছে হাজার কোটি টাকা