ইসলাম ধর্মে জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এটি সপ্তাহের সেরা দিন এবং মুমিনের জন্য ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’। শুক্রবার প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও স্থানীয় মুসলিম পুরুষদের জন্য জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জুমার মূল ফরজ নামাজ ২ রাকাত। তবে ফরজের আগে ও পরের সুন্নত মিলিয়ে সাধারণত ১০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়।
কাবলাল জুমা (ফরজের আগে): ৪ রাকাত (সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ)
জুমার ফরজ: ২ রাকাত (ইমামের পেছনে জামাতে পড়তে হয়)
বাদাল জুমা (ফরজের পরে): ৪ রাকাত (সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ)
নোট: মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে ২ রাকাত ‘দুখুলিল মসজিদ’ নফল নামাজ পড়াও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
| পার্থক্য | জোহরের নামাজ | জুমার নামাজ |
| ১. রাকাত সংখ্যা | ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। | ফরজ নামাজ ২ রাকাত। |
| ২. খুতবা | কোনো খুতবা নেই। | ফরজ নামাজের আগে ইমামের ২টি খুতবা শোনা ওয়াজিব। |
| ৩. একাকী পড়া | একা একা বা ঘরে পড়া যায়। | একা পড়া যায় না, জামাত হওয়া বাধ্যতামূলক। |
| ৪. দুনিয়াবি কাজ | ওয়াক্ত চলাকালীন কাজ করা যায়। | আজান হওয়া মাত্রই সব বেচাকেনা ও কাজ বন্ধ করা ফরজ। |
জুমার প্রথম আজান হওয়ার পরপরই সব কাজ বন্ধ করে দ্রুত মসজিদের দিকে রওনা হোন। মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে চার রাকাত ‘কাবলাল জুমা’ সুন্নত নামাজ সাধারণ সুন্নতের নিয়মেই একাকী আদায় করুন।
ইমাম সাহেব যখন মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দেবেন, তখন সমস্ত কথাবার্তা বা নফল নামাজ বন্ধ করে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে তা শুনতে হবে। খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা কাউকে চুপ করতে বলাও নিষেধ।
খুতবা শেষ হলে ইকামত দেওয়া হবে। তখন কাতার সোজা করে দাঁড়ান।
নিয়ত: মনে মনে নিয়ত করবেন—“আমি এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি।”
নামাজ: ইমাম সাহেব উচ্চ স্বরে কেরাত (সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা) পড়বেন, আপনি নীরবে শুনবেন। এরপর সাধারণ নিয়মে রুকু, সিজদা ও আখেরি বৈঠক (তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা) শেষ করে ইমামের সাথে সালাম ফেরাবেন।
ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার পর নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আরও চার রাকাত ‘বাদাল জুমা’ সুন্নত নামাজ একাকী আদায় করে নিন।
কোনো কারণে যদি কারও জুমার মূল জামাত (ফরজ ২ রাকাত) ছুটে যায়, তবে তিনি আর একা একা জুমার নামাজ পড়তে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তাকে জুমার পরিবর্তে ৪ রাকাত জোহরের ফরজ নামাজ একাকী আদায় করতে হবে।
(অনুরূপভাবে নারী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং মুসাফির বা ভ্রমণকারীদের ওপর জুমা ফরজ নয়; তারা জোহরের নামাজ আদায় করবেন। তবে কোনো মুসাফির পুরুষ যদি জুমার জামাতে শরিক হতে পারেন, তবে তার জুমা আদায় হয়ে যাবে।)
.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
ইসলাম ধর্মে জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এটি সপ্তাহের সেরা দিন এবং মুমিনের জন্য ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’। শুক্রবার প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও স্থানীয় মুসলিম পুরুষদের জন্য জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জুমার মূল ফরজ নামাজ ২ রাকাত। তবে ফরজের আগে ও পরের সুন্নত মিলিয়ে সাধারণত ১০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়।
কাবলাল জুমা (ফরজের আগে): ৪ রাকাত (সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ)
জুমার ফরজ: ২ রাকাত (ইমামের পেছনে জামাতে পড়তে হয়)
বাদাল জুমা (ফরজের পরে): ৪ রাকাত (সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ)
নোট: মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে ২ রাকাত ‘দুখুলিল মসজিদ’ নফল নামাজ পড়াও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
| পার্থক্য | জোহরের নামাজ | জুমার নামাজ |
| ১. রাকাত সংখ্যা | ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। | ফরজ নামাজ ২ রাকাত। |
| ২. খুতবা | কোনো খুতবা নেই। | ফরজ নামাজের আগে ইমামের ২টি খুতবা শোনা ওয়াজিব। |
| ৩. একাকী পড়া | একা একা বা ঘরে পড়া যায়। | একা পড়া যায় না, জামাত হওয়া বাধ্যতামূলক। |
| ৪. দুনিয়াবি কাজ | ওয়াক্ত চলাকালীন কাজ করা যায়। | আজান হওয়া মাত্রই সব বেচাকেনা ও কাজ বন্ধ করা ফরজ। |
জুমার প্রথম আজান হওয়ার পরপরই সব কাজ বন্ধ করে দ্রুত মসজিদের দিকে রওনা হোন। মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে চার রাকাত ‘কাবলাল জুমা’ সুন্নত নামাজ সাধারণ সুন্নতের নিয়মেই একাকী আদায় করুন।
ইমাম সাহেব যখন মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দেবেন, তখন সমস্ত কথাবার্তা বা নফল নামাজ বন্ধ করে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে তা শুনতে হবে। খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা কাউকে চুপ করতে বলাও নিষেধ।
খুতবা শেষ হলে ইকামত দেওয়া হবে। তখন কাতার সোজা করে দাঁড়ান।
নিয়ত: মনে মনে নিয়ত করবেন—“আমি এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি।”
নামাজ: ইমাম সাহেব উচ্চ স্বরে কেরাত (সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা) পড়বেন, আপনি নীরবে শুনবেন। এরপর সাধারণ নিয়মে রুকু, সিজদা ও আখেরি বৈঠক (তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা) শেষ করে ইমামের সাথে সালাম ফেরাবেন।
ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার পর নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আরও চার রাকাত ‘বাদাল জুমা’ সুন্নত নামাজ একাকী আদায় করে নিন।
কোনো কারণে যদি কারও জুমার মূল জামাত (ফরজ ২ রাকাত) ছুটে যায়, তবে তিনি আর একা একা জুমার নামাজ পড়তে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তাকে জুমার পরিবর্তে ৪ রাকাত জোহরের ফরজ নামাজ একাকী আদায় করতে হবে।
(অনুরূপভাবে নারী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং মুসাফির বা ভ্রমণকারীদের ওপর জুমা ফরজ নয়; তারা জোহরের নামাজ আদায় করবেন। তবে কোনো মুসাফির পুরুষ যদি জুমার জামাতে শরিক হতে পারেন, তবে তার জুমা আদায় হয়ে যাবে।)
.png)
আপনার মতামত লিখুন