সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার। বাজারে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট। বাড়তি দামে বিক্রির আশায় চারদিকে সয়াবিন তেলের মজুত শুরু হয়েছে। এতে বাজারে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। খোলা সয়াবিন তেল দাম বাড়িয়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
তবে তেল নিয়ে তেলেসমাতি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে অভিযান। আজ থেকে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। সাথে থাকবে র্যাব ও বিজিবি। আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রোববার সকালে কালেক্টরেট সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর আগমনকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।
জ্বালানী তেলের কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় তেলপাম্পে মোটর সাইকেল প্রতি ৩ লিটারের বেশি তেল মজুত না করা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাতিরেকে তেল সরবরাহ না করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। মজুতের উদ্দেশ্য তেল নিতে এলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দখল ও নির্মাণসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখার বিরুদ্ধে আজ থেকে অভিযানের কথা জানানো হয়। সভায় বিগত মাসের অপরাধ চিত্রের তথ্য উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা।
বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৯৫ টাকা ও ৫ লিটার ৯৫৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা। তবে এই দামে কোথাও মিলছে না ভোজ্যতেল। সম্প্রতি সয়াবিন তেলের নতুন দাম বেধে দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। মিল-মালিকদের এই সংগঠনটি চিঠিতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা, ৫ লিটার ১ হাজার ২০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলে ১৮৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকার এই মূল্য অনুমতি দেওয়ার আগেই নিজেরাই নতুন দাম কার্যকর করে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা শুরু করেছে সয়বিন তেল মজুদ। বোতলজাত ও খোলা দুটি তেলেরই সংকট তৈরী করা হচ্ছে। বেশি দাম দিয়েও অনেক জায়গায় মিলছেনা তেল। সরকারের পক্ষ থেকে দাম না বাড়ানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না ব্যবসায়ীরা। জনদূর্ভোগ লাঘবে তাই মাঠে নামছে যৌথবাহিনী।
রোববার আইন শৃংখলা সভায় যশোরের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের তালিকাসহ অভিযানে সার্বিক সহায়তা চান সেনাবাহিনীর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোঃ মর্তুজা আলী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা প্রদানের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় র্যাব-৬ যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল নুরু অভিযানে তাদের সম্পৃক্ততার কথা ব্যক্ত করেন।
যশোরে জ্বালানী তেল নিয়ে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ায় তেমন কোন সংকট পরিলক্ষিত না হলেও পাম্পে ব্যাপকহারে বেড়েছে মোটর সাইকেলের নিত্য লাইন। এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী যশোরের জেলা কমান্ড্যান্ট সেফাউল হোসেন জানান, মোটর সাইকেল চালকগণ তেল মজুতের নেশায় পাম্পে অহেতুক ভিড় করছেন। এর মধ্যে কেউ সংকটের আশংকায় ট্যাংকি ভরে বাড়িতে নিয়ে মজুত করে আবার পাম্পে আসছেন আবার অনেকে ট্যাংকি ভরে সেই তেল বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এ সমস্যা সমাধানে যশোরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এখন থেকে পাম্পে কোন মোটরসাইকেল তেল নিতে এলে একবারে ৩ লিটারের বেশি কেউ নিতে পারবে না। একই সাথে তেল নেবার আগে তার ট্যাংকি চেক করা হবে। মজুতের উদ্দেশ্য তেল নিতে এলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যবস্থা গ্রহণের সময় কারো কোন তদবির বা সুপারিশ না শোনার জন্য তিনি সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দখল ও নির্মাণসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখার বিরুদ্ধে আজ থেকে অভিযান, যানজট নিরসন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহিদ, পাবলিক প্রসিকিউটার অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোরে জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন প্রমুখ।
.png)
রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার। বাজারে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট। বাড়তি দামে বিক্রির আশায় চারদিকে সয়াবিন তেলের মজুত শুরু হয়েছে। এতে বাজারে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। খোলা সয়াবিন তেল দাম বাড়িয়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
তবে তেল নিয়ে তেলেসমাতি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে অভিযান। আজ থেকে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। সাথে থাকবে র্যাব ও বিজিবি। আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রোববার সকালে কালেক্টরেট সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর আগমনকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সফল করতে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন।
জ্বালানী তেলের কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় তেলপাম্পে মোটর সাইকেল প্রতি ৩ লিটারের বেশি তেল মজুত না করা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাতিরেকে তেল সরবরাহ না করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। মজুতের উদ্দেশ্য তেল নিতে এলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দখল ও নির্মাণসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখার বিরুদ্ধে আজ থেকে অভিযানের কথা জানানো হয়। সভায় বিগত মাসের অপরাধ চিত্রের তথ্য উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা।
বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৯৫ টাকা ও ৫ লিটার ৯৫৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা। তবে এই দামে কোথাও মিলছে না ভোজ্যতেল। সম্প্রতি সয়াবিন তেলের নতুন দাম বেধে দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। মিল-মালিকদের এই সংগঠনটি চিঠিতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা, ৫ লিটার ১ হাজার ২০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলে ১৮৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকার এই মূল্য অনুমতি দেওয়ার আগেই নিজেরাই নতুন দাম কার্যকর করে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা শুরু করেছে সয়বিন তেল মজুদ। বোতলজাত ও খোলা দুটি তেলেরই সংকট তৈরী করা হচ্ছে। বেশি দাম দিয়েও অনেক জায়গায় মিলছেনা তেল। সরকারের পক্ষ থেকে দাম না বাড়ানোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না ব্যবসায়ীরা। জনদূর্ভোগ লাঘবে তাই মাঠে নামছে যৌথবাহিনী।
রোববার আইন শৃংখলা সভায় যশোরের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের তালিকাসহ অভিযানে সার্বিক সহায়তা চান সেনাবাহিনীর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোঃ মর্তুজা আলী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা প্রদানের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এ সময় র্যাব-৬ যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল নুরু অভিযানে তাদের সম্পৃক্ততার কথা ব্যক্ত করেন।
যশোরে জ্বালানী তেল নিয়ে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ায় তেমন কোন সংকট পরিলক্ষিত না হলেও পাম্পে ব্যাপকহারে বেড়েছে মোটর সাইকেলের নিত্য লাইন। এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী যশোরের জেলা কমান্ড্যান্ট সেফাউল হোসেন জানান, মোটর সাইকেল চালকগণ তেল মজুতের নেশায় পাম্পে অহেতুক ভিড় করছেন। এর মধ্যে কেউ সংকটের আশংকায় ট্যাংকি ভরে বাড়িতে নিয়ে মজুত করে আবার পাম্পে আসছেন আবার অনেকে ট্যাংকি ভরে সেই তেল বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এ সমস্যা সমাধানে যশোরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এখন থেকে পাম্পে কোন মোটরসাইকেল তেল নিতে এলে একবারে ৩ লিটারের বেশি কেউ নিতে পারবে না। একই সাথে তেল নেবার আগে তার ট্যাংকি চেক করা হবে। মজুতের উদ্দেশ্য তেল নিতে এলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যবস্থা গ্রহণের সময় কারো কোন তদবির বা সুপারিশ না শোনার জন্য তিনি সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দখল ও নির্মাণসহ বিভিন্ন সামগ্রী রাখার বিরুদ্ধে আজ থেকে অভিযান, যানজট নিরসন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহিদ, পাবলিক প্রসিকিউটার অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোরে জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন প্রমুখ।
.png)
আপনার মতামত লিখুন