সার্চ টুডে

বরগুনায় ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েও বিতর্কের মুখে হাসিবুর: তদন্তের দাবি নেটিজেনদের



বরগুনায় ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েও বিতর্কের মুখে হাসিবুর: তদন্তের দাবি নেটিজেনদের

বরগুনায় মাত্র ১২০ টাকা সরকারি ফি দিয়ে শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন মো: হাসিবুর রহমান নামে এক যুবক। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

মূলত ফলাফল ঘোষণার পর পুলিশ সুপারের কাছ থেকে তার ফুল নেওয়ার একটি ছবি এবং একই সাথে তার একটি ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট ও তথাকথিত 'ফটোকার্ড' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই স্ক্রিনশট অনুযায়ী, হাসিবুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার ‘চান্দখালী মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজ’ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বলে দাবি করছেন নেটিজেনদের একটি বড় অংশ।

হাসিবুরের এই রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর থেকেই স্থানীয় ও অনলাইন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকে সাধারণ নেটিজেন ও বিভিন্ন ব্যবহারকারীদের মাঝে মূলত তিনটি পক্ষ দেখা গেছে,

অনেকের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ছাত্রলীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষিত। নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখছেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা (যেমন বিএনপি বা জামায়াত সংশ্লিষ্টতা) থাকার অভিযোগে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়নি বা ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন সক্রিয় নেতা যদি কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত নিয়োগ পান, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে হাসিবুরের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করছেন যে ভাইরাল হওয়া ওই ফেসবুক স্ক্রিনশট বা ফটোকার্ডটি সম্পূর্ণ ভুয়া বা এডিট করা হতে পারে। হাসিবুরকে বিতর্কিত করতে বা তার চাকরিটি ভেস্তে দিতে কোনো চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করে থাকতে পারে বলেও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

তবে অধিকাংশ নেটিজেন ও সচেতন মহলের দাবি—উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের আবেগ বা গুজবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। তারা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) এবং জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (DSB) মাধ্যমে হাসিবুর রহমানের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল ১৮ মে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশের পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বরগুনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগের পূর্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি একটি ধাপ। ফলে নেটিজেনদের এই তীব্র সমালোচনার পর হাসিবুর রহমানের চূড়ান্ত ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন কী আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


বরগুনায় ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েও বিতর্কের মুখে হাসিবুর: তদন্তের দাবি নেটিজেনদের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

বরগুনায় মাত্র ১২০ টাকা সরকারি ফি দিয়ে শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন মো: হাসিবুর রহমান নামে এক যুবক। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

মূলত ফলাফল ঘোষণার পর পুলিশ সুপারের কাছ থেকে তার ফুল নেওয়ার একটি ছবি এবং একই সাথে তার একটি ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট ও তথাকথিত 'ফটোকার্ড' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই স্ক্রিনশট অনুযায়ী, হাসিবুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার ‘চান্দখালী মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজ’ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বলে দাবি করছেন নেটিজেনদের একটি বড় অংশ।

হাসিবুরের এই রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর থেকেই স্থানীয় ও অনলাইন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকে সাধারণ নেটিজেন ও বিভিন্ন ব্যবহারকারীদের মাঝে মূলত তিনটি পক্ষ দেখা গেছে,

অনেকের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ছাত্রলীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষিত। নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখছেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা (যেমন বিএনপি বা জামায়াত সংশ্লিষ্টতা) থাকার অভিযোগে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীর চাকরি হয়নি বা ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন সক্রিয় নেতা যদি কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত নিয়োগ পান, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে হাসিবুরের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করছেন যে ভাইরাল হওয়া ওই ফেসবুক স্ক্রিনশট বা ফটোকার্ডটি সম্পূর্ণ ভুয়া বা এডিট করা হতে পারে। হাসিবুরকে বিতর্কিত করতে বা তার চাকরিটি ভেস্তে দিতে কোনো চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করে থাকতে পারে বলেও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

তবে অধিকাংশ নেটিজেন ও সচেতন মহলের দাবি—উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের আবেগ বা গুজবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। তারা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI) এবং জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (DSB) মাধ্যমে হাসিবুর রহমানের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল ১৮ মে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশের পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বরগুনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগের পূর্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি একটি ধাপ। ফলে নেটিজেনদের এই তীব্র সমালোচনার পর হাসিবুর রহমানের চূড়ান্ত ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন কী আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে