সার্চ টুডে

বেনাপোলে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে গণ-বিক্ষোভ ও ৩ দফা দাবি পেশ



বেনাপোলে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে গণ-বিক্ষোভ ও ৩ দফা দাবি পেশ
আন্দোলনের সময় তোলা ছবি

দেশের অর্থনীতির ফুসফুস বলা হয় বেনাপোল স্থলবন্দরকে। প্রতিদিন এই জনপদ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য আর হাজারো মানুষের আনাগোনা। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদের বাসিন্দাদের জন্য নেই একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল। "আমরা উন্নয়ন চাই না, আগে বাঁচতে চাই"—এমনই তীব্র আকুতি আর ক্ষোভ নিয়ে আজ রবিবার সকালে বেনাপোল বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মানববন্ধনে বক্তারা বেনাপোলের স্বাস্থ্যখাতের চরম অবহেলার চিত্র তুলে ধরেন।

সমাবেশে আসা সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা। বক্তারা অভিযোগ করেন, বেনাপোলে কোনো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য অসুস্থতায় বা সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিতে হয়। এই ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে যানজট ও দীর্ঘ সময়ের কারণে বহু রোগী পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— "দেশকে এতো রাজস্ব দেওয়ার পর আমাদের পাওনা কি শুধুই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু?"

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়: বেনাপোল পৌর এলাকায় সকল সুবিধাসম্পন্ন একটি আধুনিক সরকারি হাসপাতাল দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জরুরি বিভাগ চালু রাখতে হবে যাতে মধ্যরাতেও কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়।

বক্তারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, বেনাপোলবাসী আর কোনো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা অবিলম্বে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান।

সমাবেশ শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তবে বেনাপোল বন্দর অচল করাসহ আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আজকের এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার, ব্যবসায়ী সমাজ, শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, একটি হাসপাতাল এখন বেনাপোলের প্রধান ও আবশ্যিক দাবিতে পরিণত হয়েছে।

বিষয় : বেনাপোল আন্দোলন

আপনার মতামত লিখুন

সার্চ টুডে

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


বেনাপোলে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে গণ-বিক্ষোভ ও ৩ দফা দাবি পেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের অর্থনীতির ফুসফুস বলা হয় বেনাপোল স্থলবন্দরকে। প্রতিদিন এই জনপদ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য আর হাজারো মানুষের আনাগোনা। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদের বাসিন্দাদের জন্য নেই একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল। "আমরা উন্নয়ন চাই না, আগে বাঁচতে চাই"—এমনই তীব্র আকুতি আর ক্ষোভ নিয়ে আজ রবিবার সকালে বেনাপোল বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মানববন্ধনে বক্তারা বেনাপোলের স্বাস্থ্যখাতের চরম অবহেলার চিত্র তুলে ধরেন।

সমাবেশে আসা সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা। বক্তারা অভিযোগ করেন, বেনাপোলে কোনো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য অসুস্থতায় বা সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিতে হয়। এই ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে যানজট ও দীর্ঘ সময়ের কারণে বহু রোগী পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— "দেশকে এতো রাজস্ব দেওয়ার পর আমাদের পাওনা কি শুধুই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু?"

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়: বেনাপোল পৌর এলাকায় সকল সুবিধাসম্পন্ন একটি আধুনিক সরকারি হাসপাতাল দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জরুরি বিভাগ চালু রাখতে হবে যাতে মধ্যরাতেও কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়।

বক্তারা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, বেনাপোলবাসী আর কোনো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা অবিলম্বে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান।

সমাবেশ শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করে, তবে বেনাপোল বন্দর অচল করাসহ আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আজকের এই মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার, ব্যবসায়ী সমাজ, শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, একটি হাসপাতাল এখন বেনাপোলের প্রধান ও আবশ্যিক দাবিতে পরিণত হয়েছে।


সার্চ টুডে

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজাম্মুল হোসেন
বার্তা সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন কবীর
লিগ্যাল এডভাইজার: সৌরভ গাঙ্গুলি
উপদেষ্টা: সাজ্জাদ আলম খান সজল

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত সার্চটুডে