সার্চ টুডে

সেনবাগে দুই এলাকার সংঘর্ষে উত্তাল রাত, বাজারজুড়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।আহতদের মধ্যে রয়েছেন সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ মোহন নাথ এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সোহেল। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতারপাইয়া পশ্চিমপাড়ার এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেনের বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করেন। পরে ওই বাড়ি থেকে কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বেলাল হোসেন ওই মিস্ত্রিকে সন্দেহ করলে বাজারে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।একপর্যায়ে বিষয়টি দুই পাড়ার লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পশ্চিমপাড়ার লোকজন বাজারে জড়ো হন। একই সময়ে পূর্বপাড়ার বাসিন্দারাও সেখানে অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে সংঘর্ষ পুরো বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে ছাতারপাইয়া বাজার ও সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যবসায়ীরা প্রাণভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।এ সময় বাজারের অন্তত ৪০টি দোকানের শাটার ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সেনবাগ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়ে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন।ঘটনার পর শনিবার দিনভর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, বৈদ্যুতিক তার চুরিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।তিনি আরও জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সেনবাগে দুই এলাকার সংঘর্ষে উত্তাল রাত, বাজারজুড়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ