মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টার
যশোরে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের মধ্যে বজ্রপাতে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আজ দুপুরে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত তরুণের নাম রয়েল হোসেন (১৭)। সে চান্দুটিয়া গ্রামের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা শিপনের ছেলে। অন্যদিকে আহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রশিদ, তিনি একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই যশোরের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত। ওই সময় রয়েল ও রশিদ বাড়ির অদূরে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ একটি প্রচণ্ড শব্দে তীব্র বজ্রপাত সরাসরি তাদের ওপর আঘাত হানে। বজ্রপাতের শক্তিতে দুজনেই ঘটনাস্থলে মারাত্মকভাবে ঝলসে যান এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।বজ্রপাতের শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রয়েল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রয়েলের মৃত্যু হয়েছিল।এদিকে, গুরুতর আহত আব্দুর রশিদের শরীরের বেশ কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে চান্দুটিয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারে চলছে মাতম। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘের গর্জনের সময় ফাঁকা মাঠ, জলাশয় বা গাছের নিচে না থেকে সবাইকে পাকা দালান বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।