মাসুদ মাহাতাব
ছোট্ট রামিসার চলে যাওয়াশুধু একটি শিশুর মৃত্যু নয়এ যেন এক মায়ের বুকের ভেতর থেকেপুরো একটা পৃথিবী উপড়ে নেওয়া।আজও হয়তো তার মাদরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে নিঃশব্দেহঠাৎ যদি ছোট্ট পায়ের শব্দ শোনা যায়,হঠাৎ যদি দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলে,“মা…”কিন্তু নাঘর আজ নিঃসঙ্গ।বালিশে আর ঘুমের গন্ধ নেই।খেলনাগুলোও যেন আজ অনাথ হয়ে পড়ে আছে।দেয়ালের ছবিগুলোও চুপচাপ তাকিয়ে থাকেযেন তারাও বুঝে গেছে,এই ঘরে আর কোনো হাসি ফিরবে না।বলুন তো,একটি মা কতটা কাঁদলেরাতের আকাশও নীরবে ভিজে যায়?একটি বাবার বুক কতটা ভাঙলেচোখের ভাষাও হারিয়ে ফেলে শব্দ?একটি শিশুর ছোট্ট জীবনকতটা অবহেলায় ঘেরা হলেএভাবে হঠাৎ থেমে যায়?কতটা নিষ্ঠুর হলে পৃথিবীএকটি নিষ্পাপ মুখের হাসি কেড়ে নেয়?রামিসা তো শুধু একটি নাম নয়সে প্রতিটি শিশুর প্রতিচ্ছবি,যে নিরাপদ শৈশব পাওয়ার অধিকার নিয়ে জন্মায়।সে প্রতিটি মায়ের স্বপ্ন,যে সন্তানের হাসির ভেতর নিজের বেঁচে থাকা খুঁজে পায়।কিন্তু আজএকটি ছোট্ট কবরের পাশে দাঁড়িয়েএকটি প্রশ্ন বারবার বুক চিরে যায়—আমরা কি সত্যিই শিশুদের জন্যনিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে পেরেছি?হে সমাজ,একবার শুধু একজন মায়ের চোখ দিয়ে দেখুনযে মা আজও হয়তো সন্তানের জামাবুকের সঙ্গে জড়িয়ে কাঁদে গভীর রাতে।একবার শুধু একজন বাবার নীরবতা শুনুনযেখানে কোনো শব্দ নেই,তবুও হাজার ভাঙা স্বপ্নের আর্তনাদ লুকিয়ে আছে।কারণ কিছু কান্না শব্দ করে না,তবুও পুরো পৃথিবী কাঁপিয়ে দেয়।রামিসার মায়ের কান্না তেমনই এক কান্নাযে কান্না মানুষের বিবেককে প্রশ্ন করে,মানবতাকে আয়নার সামনে দাঁড় করায়।একটি শিশু হারিয়ে গেলেশুধু একটি পরিবার ভেঙে পড়ে নামানবতার বুক থেকেওএক টুকরো আলো নিভে যায়।আর সেই অন্ধকারঅনেক দিন ধরেআমাদের হৃদয়ে রয়ে যায় নিঃশব্দ কলমে:সাহেলা খান রিমু ঢাকা, বাংলাদেশ