প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের
ফেনীর মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হলো নতুন আশার আলো। আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার (১৬ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, ফেনী-এর বর্ধিত জরুরি বিভাগ। এর মাধ্যমে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় সূচিত হলো নতুন এক দিগন্ত।দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিসরের জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসলেও প্রয়োজনীয় জায়গা ও সুবিধার ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবশেষে পরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠলো হাসপাতালটি।নতুন সম্প্রসারিত জরুরি বিভাগে রোগীদের জন্য বাড়ানো হয়েছে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা, উন্নত পর্যবেক্ষণ সুবিধা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও তৈরি করা হয়েছে আরও আধুনিক ও কর্মবান্ধব পরিবেশ। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদান এবং তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা এখন আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফেনীর সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।এ উপলক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। তাদের নিরলস পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আধুনিক এই জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম আজ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, ফেনী-এর এই আধুনিক উদ্যোগ ফেনীর স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারিত জরুরি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।