মেহেদী হাসান রিপন
যশোর ও খুলনার প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ 'ভবদহ জলাবদ্ধতা' দূর করতে এবার প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মকেই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হচ্ছে। কৃত্রিম পাম্প বা রেগুলেটর দিয়ে পানি আটকে রাখার ব্যর্থ চেষ্টার পর, এবার চূড়ান্ত সমাধানে ভবদহ রেগুলেটরটি পুরোপুরি ভেঙে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের জোরালো প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নদী তার আদি রূপ ফিরে পাবে এবং স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে পলি ও পানির প্রবাহ সচল হবে।শনিবার যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM) আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় এই যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনার খসড়া উন্মোচন করা হয়।বিজ্ঞানভিত্তিক এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, ২০২১ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি পাম্প বসিয়েও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা যায়নি। উল্টো নদীগুলোতে অতিরিক্ত পলি জমে নাব্যতা সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এই সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তির লক্ষ্যে প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা তিন স্তরের একটি কর্মপরিকল্পনা দিয়েছেন:রেগুলেটর অপসারণ ও সেতু নির্মাণ: কৃত্রিম বাঁধ বা রেগুলেটর সরিয়ে সেতু করা হবে, যেন জোয়ারের পানি বাধা না পায়।প্রাকৃতিক পলি ব্যবস্থাপনা (TRM): অতীতে সফল হওয়া টিআরএম (Tidal River Management) কার্যক্রম আইনি ও সামাজিক জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় চালু করা হবে।অবকাঠামোগত সংস্কার: নদীর প্লাবনভূমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে। বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের জন্য তৈরি হবে নতুন সংযোগ খাল এবং খনন করা হবে পাইলট চ্যানেল।যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় নীতিগত নীতি-নির্ধারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম রছুল, গাজী এনামুল হক ও মোঃ মোক্তার আলী এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদ।প্রকল্প পরিচালক নাছরিন আক্তার খান এবং আইডব্লিউএম-এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান জানান, এটি কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়; মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও ডুমুরিয়ার ভুক্তভোগী মানুষের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে এই প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে দ্রুতই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।