মেহেদী হাসান রিপন
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নারিকেলবাড়িয়া হাটে সবজির পাইকারি বাজার স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আধিপত্য বিস্তার আর ইজারা রাজনীতির মারপ্যাঁচে সাধারণ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।হাটের নতুন ইজারাদার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাইকারি সবজি বাজারটি বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার উদ্যোগ নিলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এই সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালী পক্ষ। ব্যবসায়ীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে যেখানে হাট বসে আসছে, সেখান থেকে বাজার সরানো হলে তাদের ব্যবসায়িক চেইন ভেঙে পড়বে।গতকাল উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে বাজার পরিদর্শনে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, তদন্ত চলাকালীনই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।উত্তেজনার সমান্তরালে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ: উচ্চমূল্যে হাট ইজারা নেওয়ার অজুহাতে সরকার নির্ধারিত টোলের কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয় কাজ করছে। অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর সবজির দামের প্রভাব পড়ছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রধান করে গঠিত ১১ সদস্যের কমিটিতে উপজেলা প্রকৌশলী, কৃষি কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রাখা হয়েছে।উপজেলা প্রশাসনের মন্তব্য: "আমরা সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে এবং হাটের শৃঙ্খলা ফেরাতে তদন্ত করছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়।"স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাট-বাজারের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে নারিকেলবাড়িয়া হাটের এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।