ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
আজ(২৬) এপ্রিল রবিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদরের মথুরাপুর পাবলিক হাই স্কুলে (ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্প) এর উদ্যোগে শতাধিক ছাত্রীদের অংশগ্রহণে যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে আলোচনা ও মিনিস্ট্রিয়াল হাইজিন কর্নার উদ্বোধন এবং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পুষ্টির সেবা যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।বাংলাদেশে বড় একটি প্রজননক্ষম জনগোষ্ঠী কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী) রয়েছে। যারা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ১৯ ভাগের বেশি। তবে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অসচেতনতার কারণে তাদের মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগ নারী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। অথচ অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও উপলব্ধি না থাকায় কিশোরী মাতৃত্বহার বাড়ছে। তাই যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে লজ্জা নয় বরং সচেতন হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করছেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন যৌনপ্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার , মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণদের দায়িত্ব ও লিঙ্গ সমতায় সামাজিক আন্দোলনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার শিক্ষা বিষয়ক কাজের সঙ্গে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নেটওয়াকিং বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। এজন্য মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন, চর্চা ও কৌশল সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলেন।আলোচনার সময় বক্তারা আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও এখনো কিশোরী মাতৃত্বহারের উল্লেখেযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এতে করে বোঝা যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ খুবই কম। কারণ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক যে সব নীতিমালা, কর্মসূচি ও সেবা সমূহ রয়েছে। সেখানে কিশোর-কিশোরী ও যুবকদের জীবন বাস্তবাতা, প্রয়োজন ও চাহিদাগুলো বিবচনায় নিয়ে তাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক প্রতিফলন হয় না। বক্তারা বলেন, তাই যৌন-প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে লজ্জা না করে সচেতন হতে কিশোর-কিাশোরী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভিত্তিক প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা, লিঙ্গ বৈষম্যতা দূরীকরণে সামাজিক সহনশীলতা এবং যুববান্ধব যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বরো আলোচনা করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডাঃ আশরাফী আহমেদ (এনডিসি) পরিবার পরিকল্পনা ঢাকা। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব, মোঃ গোলাম ফেরদৌস, জনাব,মোজাম্মেল হক, পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা রংপুর বিভাগ, জনাব মোঃ শামসুদ্দীন মোল্লা উপ-পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা ঠাকুরগাঁও,এ ছাড়াও প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন, জনাব জুলিয়াস আর্থার সরকার, প্রকল্প ম্যানেজার রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্প ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। আরো উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুর পাবলিক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আলমগীর, উক্ত আলোচনা শেষে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রকল্প কর্তৃক একটি মিনিস্ট্রাল স্বাস্থ্যবিধি ও ব্যবস্থাপনা কর্নার করে দেওয়া হয়, উক্ত কর্নারে ৫৭৫টি প্যাকেট ন্যাপকিন প্যাড, একটি পেশেন্ট বেড, একটি ডাস্টবিন, একটা সেল্ফ দেওয়া হয়। মিনিস্ট্রাল হাইজিন ব্যবস্থাপনা কর্নারের, শুভ উদ্বোধন করেন, পরিবার পরিকল্পনা মহাপরিচালক ডাঃ আশরাফী আহমেদ,আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নাদিয়া আক্তার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের প্রকল্প অফিসার মারুফা খাতুন, সহ প্রমুখ, পরবর্তীতে আমন্ত্রিত অতিথিগণ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবার উপহার হিসেবে প্রাপ্ত MSR, ডিভাইস ও অন্যান্য মালামাল বিতরণ করেন, সাথে গর্ভবতী মা, প্রসূতি মায়েদের জন্য ক্যালসিয়াম, কিশোরীদের জন্য সেনেটারী ন্যাপকিন প্যাড, শিশুদের জন্য,ওয়েট স্কেল, উচ্চতা স্কেল, থার্মোমিটার, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য গ্লুকোমিটার,ও বিপি মেশিন প্রদান করেন, চিকিৎসা সেবা গ্রহীতাগণ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।।